বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগস্টের গণঅভ্যুত্থান: দুই বছরে কতটা বদলেছে বাংলাদেশ?— ক্ষমতার পালাবদল, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নতুন রাষ্ট্রের সন্ধানে” শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হাওড়ার পিলখানায় হামিমের ভাড়া নেওয়া কারখানার সন্ধান, পাঁচ দিন ধরে বন্ধ; এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য আসুন সকলে মিলে দেশটাকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশুলিয়ায় গ্যারেজ থেকে ২টি অটোরিকশা উধাও: চুরি-ছিনতাই ও চাঁদাবাজ চক্রের একজন গ্রেপ্তার হলেও অধরা মূলহোতা রনি মোহাম্মদপুরে পুলিশের সামনেই প্রবাসীর কোটি টাকার বাড়ি দখলের অপচেষ্টা: কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র তাণ্ডবের অভিযোগ সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

আগস্টের গণঅভ্যুত্থান: দুই বছরে কতটা বদলেছে বাংলাদেশ?— ক্ষমতার পালাবদল, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও নতুন রাষ্ট্রের সন্ধানে”

আওরঙ্গজেব কামাল : / ২ টাইম ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের অবসানের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলেও দুই বছর পরও দেশ পুরোপুরি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ফিরতে পারেনি। সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ এখনও একটি রূপান্তরকালীন রাজনৈতিক সময় অতিক্রম করছে।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটি যুগান্তকারী দিন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর  এই দিনটি আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিনে পরিণত হয়েছে। আজ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার দ্বিতীয় বার্ষিকী। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা, সহিংসতা, প্রাণহানি এবং জনঅসন্তোষের ধারাবাহিকতায় এদিন দেশের ক্ষমতার কাঠামোতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। একদিকে এটি বহু মানুষের কাছে গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের দিন, অন্যদিকে এটি ছিল শত শত পরিবারের জন্য শোক ও বেদনার দিন। জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, প্রাণহানি এবং রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্ট সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজপথে অবস্থান নেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল রাজধানীমুখী হতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দিনের এক পর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেন এবং দেশ ত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা সরকারের শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়। ঘটনার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারিক সংস্কার এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক বিষয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR)-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সহিংসতায় প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, শিশু এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও ছিলেন। এছাড়া হাজারো মানুষ আহত হন এবং বহু মানুষ গ্রেপ্তার বা আটক হন। তবে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানে এ সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। সহিংসতার সময় সরকারি ও বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন থানায় হামলা, সরকারি ভবনে ভাঙচুর, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, সেতু ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। তৈরি পোশাক শিল্প, রপ্তানি কার্যক্রম, পরিবহন, পর্যটন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অর্থনীতিবিদদের মতে, কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি হয়, যদিও ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব ভিন্ন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক সংস্কার, বিচারিক জবাবদিহিতা, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে জুলাই-আগস্টের সহিংসতার ঘটনায় বিচার, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংস্কার কার্যক্রমের গতি, বিচারপ্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও সমালোচনা তুলে ধরছে। দ্বিতীয় বর্ষের পূর্তির  পরও জুলাই-আগস্টের ঘটনায় নিহতদের পরিবার বিচার ও সত্য উদ্‌ঘাটনের প্রত্যাশা করছে। আহতদের অনেকেই এখনও চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিভিন্ন মহলের অভিমত, গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, মানবাধিকার, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্ট কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের দিন নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার ধরন, জনগণের অংশগ্রহণ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তবে তারা মনে করেন, স্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক চর্চা অপরিহার্য। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একই সঙ্গে আত্মত্যাগ, পরিবর্তন, আশা এবং দায়বদ্ধতার প্রতীক। এই দিনের শিক্ষা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—যে কোনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন এবং অগ্রগতির ভিত্তি হতে হবে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা। সে যাই হোক। রাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শেষ হয়নি। বিএনপির সাথে বিরোধী দলীয়দের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। বিএনপি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধীরা কেমন হতে পারে। সে যাই হোক,আজ, ৫ আগস্ট ২০২৬, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সরকারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবন্ধ, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দিবসটির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা সভা। বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি।বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজধানী ও সারা দেশে সমাবেশ, র‌্যালি ও শোকসভা পালন করছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫ আগস্ট ঢাকায় গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। ১১ দলীয় জোটও দেশব্যাপী র‌্যালি, আলোচনা সভা, শহীদদের স্মরণে দোয়া এবং স্মারক কর্মসূচি পালন করছে। এছাড়া আজকের দিনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য, স্মরণসভা এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল্যায়ন নিয়ে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি চলছে।জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এক বছর পূর্ণ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল নানা চ্যালেঞ্জে ঘেরা। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এক বছরের পথচলায় যেমন কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা গেছে, তেমনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমালোচনাও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতিকে গতিশীল করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া। সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক সংস্কার, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কৃষি খাতে সহায়তা এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।পররাষ্ট্রনীতিতেও সরকার নতুন ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের  অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ বড় একটি সমস্যা। যদিও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবুও মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। ব্যবসায়ী মহলের একাংশ আরও দ্রুত নীতিগত সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের দাবি জানিয়ে আসছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে দলীয় নেতা কর্মীদের  অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন তার বিচার করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানালেও বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং কিছু পর্যবেক্ষক রাজনৈতিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় পর্যায়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে  রাষ্ট্র সংস্কারের অগ্রগতি কতটুকুই পর্যন্ত পালিত হয়েছে সেটা এখন দেখার বিষয়। নির্বাচনের আগে রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও অনেক সংস্কার এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে বিচারব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী সরকার বিরুদ্ধে সমালোচন করছে অনেকে।স্বচ্ছতা, দুর্নীতি দমন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের গতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু গবেষণা ও বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকারের প্রথম একশ দিনের অভিজ্ঞতা দেখায় যে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। সরকারের অবস্থান কল্যাণমূলক। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। অভিজ্ঞ জনতার মতে  বিগত অন্তবোতেন কালীন সরকার  আন্দোলনের কারণে  কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। তারই ধারাবাহিকতায়  বর্তমান সরকার নানা বিধ সমস্যার মধ্যে দেশ পরিচালনা করছে। এখন বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে  জামাত, এনসিপি সহ  তাদের সমমানা দলগুলো  উঠে পড়ে লেগেছে। আপনারাই বলুন এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। একটি সরকার ক্ষমতায় এসেছে দু একটি বছর যেতে দিন  সরকারের কর্মকান্ড দেখুন  তারপর না হয় দেখা যাবে। কিন্তু  রাজনীতিতে যে সমস্যা চলছে  জনসাধারণের জন্য কল্যাণকর নয়। সরকারের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দায়িত্ব নিয়ে তারা ধাপে ধাপে অর্থনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার কাজ করছে। তাদের মতে, বড় ধরনের সংস্কার একদিনে সম্ভব নয়; এজন্য সময়, রাজনৈতিক ঐকমত্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা প্রয়োজন। এক বছরের মূল্যায়নে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে যেমন কিছু দৃশ্যমান অর্জনের দাবি রয়েছে, তেমনি মূল্যস্ফীতি, আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী সময়ে সরকারের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখার সক্ষমতার ওপর।বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সংঘাতমুক্ত রাখা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং নাগরিক আস্থা পুনর্গঠন করা। তারা মনে করেন, টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরকার, বিরোধী দল এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ ও পারস্পরিক আস্থা অপরিহার্য।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু সংকট এসেছে এবং সময়ের সঙ্গে সেগুলো অতিক্রমও করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিও সেই ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সহিংসতার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সংলাপ এবং আইনের শাসনের মাধ্যমে সংকট সমাধানই দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

লেখক ও গবেষক : 

আওরঙ্গজেব কামাল

সভাপতি :  ঢাকা প্রেসক্লাব

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর