আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা একে অপরের পরিপূরক; একটি স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যম ছাড়া পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক ফলাফল পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক শেখ মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, সংবাদপত্র শুধু সংবাদ প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি সমাজের দর্পণ এবং মানুষের চিন্তা-চেতনা, বিবেক ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল ৫টায় রাজধানীর রামপুরার ৪৫৫, ডিআইটি রোড সংলগ্ন রামপুরা-বাড্ডা-হাতিরঝিল প্রেসক্লাবে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রামপুরা-বাড্ডা-হাতিরঝিল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাগর চৌধুরী ভোলার সভাপতিত্বে সভায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সামাজিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংবাদপত্রের মাধ্যমে মানুষ দেশ-বিদেশের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে পারে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সমাজের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যম ছাড়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের প্রধান দায়িত্ব সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা; সংবাদ পরিবেশনে ব্যক্তিগত স্বার্থ, প্রভাব কিংবা চাপের ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত নীতি ও নৈতিকতা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে ভার্চুয়াললি বক্তব্য রাখেন,রামপুরা-বাড্ডা-হাতিরঝিল প্রেসক্লাবে উপদেষ্টা,আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ও ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। তিনি এ সময় বলেন,সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রেসক্লাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রামপুরা, বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকার নাগরিক সমস্যা, জনদুর্ভোগ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, যোগাযোগ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময়, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চা এবং অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে প্রেসক্লাব কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি এ সময় আরো বলেন সাংবাদিকরা আজ গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত হয়েছে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করছে এক সাংবাদিক অপসংবাদিকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করছে এ থেকে একটি বল সুফিধা আদায় করছে ফলের সাংবাদিকদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমাদের এসব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এবং সাংবাদিক সংগঠন ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন থাকতে হবে।অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দৈনিক ফলাফল পত্রিকার উপদেষ্টা লায়ন হারুনর রশীদ দুলাল, লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ক্যাপিটাল গার্ডেনের প্রেসিডেন্ট ও দৈনিক ফলাফল পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক লায়ন খান আক্তারুজ্জামান, লায়ন ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৩-এর ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারপারসন ও দৈনিক ফলাফল পত্রিকার উপদেষ্টা লায়ন শেখ মনিরুজ্জামান এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ও কন্ট্রোলার শাখার কর্মকর্তা ও দৈনিক ফলাফল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মোরশেদ আলম প্রিন্স। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন লায়ন ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫-বি৩-এর ডিস্ট্রিক্ট চেয়ারপারসন মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আফজাল হোসেনসহ অন্যান্য অতিথি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লায়ন হারুনর রশীদ দুলাল বলেন, সংবাদমাধ্যম মানুষের সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে। লায়ন খান আক্তারুজ্জামান বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদ প্রকাশে তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ না করে সংবাদ ও মতামতের মধ্যে যথাযথ পার্থক্য বজায় রাখতে হবে। লায়ন শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, সমাজের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করা ও জনসচেতনতা তৈরিতে সংবাদপত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। মোরশেদ আলম প্রিন্স বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হলেও দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় তথ্যের সত্যতা যাচাই ও পেশাগত নৈতিকতার বিষয়টি উপেক্ষা করা যাবে না। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে পাঠক ও দর্শকের আস্থা অর্জনই গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। সভায় সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন,, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা সম্প্রসারণের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আরও জনমুখী করে তুলতে হবে। সংবাদ প্রকাশে সত্যনিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা, তথ্য যাচাই ও নৈতিকতার চর্চা বজায় রাখার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পারস্পরিক বিভেদ ভুলে পেশাগত অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা আরও সুদৃঢ় হলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও কার্যকর ও বিস্তৃত হবে।