ক্ষমতাচ্যুত সরকারের অনুসারী ও একটি কথিত ‘গুপ্ত বাহিনী’ আবারও একত্র হয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে দেশের মানুষকে এ ধরনের তৎপরতার বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও মন্দিরের পুরোহিতদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ‘গুপ্ত রাজনীতি’ এবং অতীতের স্বৈরাচারী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের সুস্পষ্ট কোনো কর্মসূচি নেই। তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতা অর্জন। এ কারণে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হলে শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিও বাধাগ্রস্ত হবে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মাননার মতো কর্মসূচি চালিয়ে যেতে স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের নিয়মিত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের সার, বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক লাখের বেশি কৃষক কৃষক কার্ড পেয়েছেন। জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক ‘এক দফা’ দাবির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, যারা এমন রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিচ্ছেন, জনগণের কল্যাণে তাদের বিকল্প কর্মসূচি কোথায়? ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মাননা কিংবা স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি তাদের রয়েছে কি না—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মাননা, খাল খনন এবং বন্ধ থাকা কলকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
‘গুপ্ত বাহিনী’ ও ক্ষমতাচ্যুত সরকারের অনুসারীদের মধ্যে যোগাযোগের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তাদের মধ্যে সমন্বয়ের নজির রয়েছে। তিনি ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, এ কারণেই ওই রাজনৈতিক তৎপরতাকে ‘গুপ্ত’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিনের নিপীড়ন, গ্রেপ্তার, কারাবাস ও মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণ একপর্যায়ে রাজপথে নেমে আসে। গণআন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।