ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুর-১ আসনে (পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী) দীর্ঘ ২৯ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিজস্ব দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে ১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দারের নাম ঘোষণা করা হলেও চূড়ান্তভাবে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় একে অপরকে মিষ্টি বিতরণসহ বিভিন্নভাবে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়। নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে এই আসনে জোটের প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও বঞ্চনার অনুভূতি বিরাজ করছিল। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর নিজস্ব প্রার্থী পাওয়ায় তারা নতুন করে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ায় দীর্ঘদিনের কষ্ট ও ক্ষোভ অনেকটাই দূর হয়েছে বলে মনে
করছেন তারা। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, দলীয় প্রার্থী দেওয়ায় বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী মাঠে কাজ করার সুযোগ পাবে।জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে জোটনির্ভর রাজনীতির কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ছিল। এবার দলীয় প্রার্থী দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত হবে। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, ১৯৯৬ সালের পর জোটগত বাস্তবতায় আমরা দলীয় প্রার্থী দিতে পারিনি। বহুদিনের সংগ্রামের পর এবার আমাদের মধ্য থেকেই প্রার্থী এসেছে। নেতাকর্মীরা দারুণভাবে উজ্জীবিত। ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থেকে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকতারুজ্জামন শেখ রাহাত বলেন, দীর্ঘদিন নিজস্ব প্রার্থী না থাকায় নেতাকর্মীদের মনে চাপা ক্ষোভ ছিল। এই নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দেওয়ায় সেই ক্ষোভ কেটে গেছে। জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ বলেন, পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থী থাকায় নেতাকর্মীরা নতুন উদ্দীপনা ও আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বিজয় অনিবার্য। জেলা ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খায়রুল ইসলাম বাবু বলেন, এতদিন জোটের প্রার্থী থাকায় আমাদের ভেতরে চাপা কষ্ট ছিল, এবার ধানের শীষের প্রার্থী পাওয়ায় সবাই নতুন আশায় বুক বাঁধছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন তালুকদার কুমার বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছর পর দলীয় প্রার্থী পাওয়াটা আমাদের জন্য আবেগের বিষয়। আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে ছিল, যারা ত্যাগ স্বীকার করেছে, এই মনোনয়ন তাদের জন্য এক ধরনের স্বীকৃতি। পিরোজপুর-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকার সমস্যা নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে। তিনি বলেন, ২৯ বছর পর ধানের শীষের মানুষ আবার ধানের শীষ ফিরে পেয়েছে। যারা জেল খেটেছে, মামলা সহ্য করেছে, ঘরছাড়া হয়েছে, এই মনোনয়ন আসলে তাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের বিজয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর নিজস্ব প্রার্থী পাওয়ায় পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি ও সম্ভাবনার সূচনা হয়েছে।