বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার মেট্রোরেলের ৩ প্রকল্পসহ ১২ প্রকল্প অনুমোদন রূপনগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ওসির মতবিনিময় হাটহাজারীতে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সকল সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে : রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও গুম-খুনের নির্দেশদাতা : স্পিকার আশুলিয়ায় চাঁদার দাবিতে সাংবাদিকের উপর হামলা , হত্যার হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পিরোজপুর যুব উন্নয়ন কৃষি প্রশিক্ষণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, দুর্নীতি ঢাকতে উপহার বিতরণের দাবি

পিরোজপুর অফিস: / ১০৬ টাইম ভিউ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

পিরোজপুর অফিস:পিরোজপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিচালিত কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপস্থিতি জালিয়াতি, ভুয়া আবাসিক দেখানো এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা। জানা যায়, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কৃষি সংশ্লিষ্ট (গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ ও প্রাথমিক চিকিৎসা) প্রকল্পের ১৩০ তম ব্যাচে মোট ৫৫ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি থাকলেও নিয়মিত উপস্থিতি ছিল গড়ে ১৮ থেকে ৩০ জনের মধ্যে। তবে অনুপস্থিত অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থীর নামেও উপস্থিতি দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের দাবি, তিন মাসব্যাপী এই কোর্সে অনেকেই নিয়মিত ক্লাস না করলেও তাদের উপস্থিত দেখানো হয়েছে। এমনকি আবাসিক সুবিধা গ্রহণ না করেও অনেককে আবাসিক হিসেবে দেখিয়ে খাদ্য বাবদ বরাদ্দ উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন প্রকৃত উপস্থিতি কম থাকলেও ৫৫ জনের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য ব্যয়ের হিসাব তোলা হয়েছে। একাধিক প্রশিক্ষণার্থী জানান, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অন্যদের দিয়ে একাধিক দিনের উপস্থিতি শিটে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এছাড়া কোর্স শেষে নিয়মিত ক্লাস না করা অনেককেও সনদপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ১৩০ তম ব্যাচের এক প্রশিক্ষণার্থী মো. নাঈম হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত ক্লাস করেছি ২৫-৩০ জন, কিন্তু উপস্থিতি দেখানো হয়েছে সবার। যারা ক্লাস করেনি তারাও সার্টিফিকেট পেয়েছে। এতে প্রকৃত শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। একই ব্যাচের ক্লাস ক্যাপ্টেন সিরাজ বলেন, গড়ে ১৭-১৮ জন নিয়মিত ক্লাস করলেও ৫৫ জনকেই উপস্থিত দেখানো হয়েছে। আবাসিক সুবিধাও অনেকেই পায়নি, কিন্তু বরাদ্দ তোলা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত চাই। প্রশিক্ষণার্থীদের আরও অভিযোগ, সরকারি কোনো নির্দেশনা বা বরাদ্দ না থাকলেও তাদের ব্যাগ ও গেঞ্জি দেওয়া হয়েছে। তাদের ধারণা, বড় ধরনের অনিয়ম আড়াল করতেই এসব উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক (পশুপালন) এইচ. এম. আহসান আকীব সুজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সঠিক নয়। আবাসিক খরচ বাবদ মাথাপিছু ১৫০ টাকা ব্যয় করা হয়। কিছু শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে সেই অর্থ প্রচারণামূলক কাজে ব্যয় করা হয়, যার অংশ হিসেবে ব্যাগ ও গেঞ্জি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বরাদ্দ বা নির্দেশনা নেই। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পিরোজপুর যুব উন্নয়নের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর আমিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) প্রিয় সিন্ধু তালুকদার বলেন, এ প্রশিক্ষণে ব্যাগ বা গেঞ্জি দেওয়ার কোনো নির্দেশনা বা বরাদ্দ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চিত্র উঠে আসতে পারে। তাই দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর