আশাশুনির খেজুয়ারডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ত্রিতল ভবন নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি বিষয়ে অজ্ঞাত কারনে প্রকৌশলীর কণ্ঠে ঠিকাদারের ভাষা শুনে হতবাক হয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।
সরজমিনে ঘুরে মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের কাজে অনিয়ম-দূর্নীতি ও নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঠিকাদারের সুরে কথা বলতে শুরু করেন। চিলেকোঠার ছাদ ও বিম ঢালাইয়ের ব্যাপক অনিয়মের ভিডিও ফুটেজ দেখালে প্রথমে তিনি ভিডিও গুলো এডিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পরে বলেন সমস্যা একেবারে হয়নি বলবো না, পরবর্তীতে কিছু মসলা দিয়ে ঢেকে ঠিক করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে এগুলো না দেখলেও চলবে। অন্য উপজেলা থেকে বেশী ক্যায়ারিং খরচ করে দুই নম্বর ইট ব্যবহারের কথা বললে তিনি বলেন, ইটের গায়ে তো ১/২ নম্বর লেখা থাকে না, কি করে বুঝবো কোনটা ১ নম্বর কোনটা ২ নম্বর। তেমন কোন সমস্যা নাই, সব ধরলে হয়না। সবশেষে তিনি বলেন, বিম ও ছাদের ঢালায় শেষে যে সব রড দেখা যাচ্ছিল সে সব মসলা দিয়ে প্লাস্টার করে ঢেকে দেয়া হয়েছে। আসলে ওই স্কুলের যাতায়াত ব্যবস্থা এতো খারাপ যে ঠিক মতো দেখভাল করা হয়ে ওঠেনি। আপনারা বলেছেন যখন বাকি কাজটুকু ভালো করে দেখে নেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।এর আগে সরজমিনে গেলে প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র গাইন সাংবাদিকদের জানান, নিম্নমানের ইট, বালি ও পাথর ব্যবহারের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বলেও কোন ফল হয়নি। আমি স্কুলের কাজে ব্যস্ত থাকায় সবদিক খেয়াল করতে পারিনি। স্কুলের স্বার্থে কথা না বলে অজ্ঞাত কারণে সেদিন তিনি বার বার ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।এ ব্যাপারে ঠিকাদার আবুল কালামের সাথে মুঠো ফোনে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে প্রোকৌশলী অনিন্দ্যদেব সরকারের সাথে কথা বলে নিতে বলেই লাইন কেটে দেন।নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে ১ কোটি সাড়ে ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলার খবরটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের “ডোন্ট কেয়ার” অবস্থান নেওয়ায় সচেতন মহল হতবাক হয়েছেন। প্রসঙ্গত, খেজুর ডাঙ্গা স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ১ মে থেকে কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার আবুল কালাম। ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারী কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেননি। এরপর ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয় কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির ফলে ৩ মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ নামেনি। এরপরও ভবনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে বারবার অভিযোগ উঠলেও ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও প্রধান শিক্ষক মিলেমিশে একই সুরে কথা বলায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অনিয়মকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্কুলের অভিভাবকগন ও সচেতন এলাকাবাসি।