শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
ঢাকার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায় আঙ্কারা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউএনজিএ জয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোড শো করবে সরকার মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হলেন খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন মূলধারার গণমাধ্যমের পেশা চর্চায় অনৈতিক বাধা মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ : তথ্যমন্ত্রী

কালীঘাট অভিযানের সময়, যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের উপর পুলিশি জুলুম ও গ্রেফতার

রিপোর্টার, শম্পা দাস ও সমরেশ রায়। কলকাতা : / ৯৬ টাইম ভিউ
আপডেট : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার, ঠিক সকাল ১১ টায়, যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের ডাকে, কলকাতা ময়দান মেট্রো স্টেশনের এক নম্বর গেটের সামনে যখন জমায়েত হচ্ছিলেন সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকারা, এবং সেখান থেকে মিছিল করে তারা কালীঘাট অভিযানে যাবেন, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ও সাক্ষাৎকারের দাবী নিয়ে দুপুর ১২ টায়, কয়েকশোর যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা জমায়েত হয়েছিলেন, ঠিক সাড়ে এগারোটা নাগাদ, পুলিশ অফিসারেরা কয়েকশো পুলিশ বাহিনী নিয়ে তাহাদেরকে অভিযান করতে দেবেন না বলে জানান, সাথে সাথে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর জুলুম ও গ্রেপ্তার করেন, শিক্ষক শিক্ষিকারা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে অন্যায় ভাবে চ্যাংদোলা করে ভ্যানের মধ্যে তুলেন, যাহারা বেশ কিছুদিন ধরে ধর্মতলা ওই চ্যানেলে ঝরনা মঞ্চে প্রতিবাদ করে এসেছিলেন, আজ তারা এই অভিযানে গ্রেফতার হন,

যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষিকারা জানান, আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলাম আমাদের দাবী নিয়ে, আমরা এই অভিযানের জন্য লালবাজারে পারমিশনও চেয়েছিলাম কিন্তু আমরা না পাওয়ায় আমরা মেইল করি, আমাদেরকে রিটার্ন কিছু দেওয়া হয়নি, কিন্তু আমরা কোনরকম জুলুমবাজি করিনি, প্রশাসনের লোকেরা আমাদের উপর জুলুমবাজি থেকে শুরু করে অন্যায় ভাবে গ্রেফতার করেছে। এমনকি শিক্ষকদের গায়ে হাত দিয়েছে।

যখন ২০০ থেকে আড়াইশো শিক্ষক শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলা হয়, তখন কয়েকশো শিক্ষক-শিক্ষিকা অন্য রাস্তা ধরে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করে অন্য রাস্তা দিয়ে ময়দান 4 নম্বর মেট্রোর কাছে আসছিলেন, তখনো কয়েকশো পুলিশ ধাওয়া করে বেশ কিছুকে গাড়িতে তুলে নেয়, এমনকি মেট্রোর ভেতরে গিয়েও গ্রেফতার করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকারা থেমে থাকেননি, অবিলম্বে যাদের গ্রেফতার করছে তাহাদের না ছেড়ে দেওয়াই, কয়েকশ শিক্ষক-শিক্ষিকা ধর্মতলার ডড়িনা ক্রসিং অবরোধ করেন ও বসে পড়েন, বেশ কিছুক্ষণ আন্দোলন করার সময় প্রশাসনের অফিসাররা তাদেরকে রাস্তার উপর থেকে সরে যেতে বলেন, কিন্তু তাহারা কোনরকম কর্ণপাত না করায়, পুনরায় পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে এবং লাঠি দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে। সমস্ত ধর্মতলায় যানজটের সৃষ্টি হয়, সমস্ত রাস্তায় গাড়ি আটকে পড়ে। তবে শিক্ষক-শিক্ষিকারা বলেন অন্যায় ভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের উপর জুলুম করা হয়েছে এবং আমাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে এর সাথে সাথে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাজে জানা যায়, যদি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সাথে সাক্ষাৎ না করেন এবং আলোচনা না করেন, তাহলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় আমরা কোনরকম স্কুলে যাব না। এবং ডিউটি করব না, তাহাদের দাবী স্কুল সার্ভিসের পশ্চিমবঙ্গ, একাদশ দ্বাদশ এবং নবম দশম শ্রেণী ২০১৬ এস এল এস টি তে নিযুক্ত দুর্নীতিমুক্ত যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মানের সহিত চাকরিতে বহাল রাখতে হবে। আজ প্রায় চার থেকে পাঁচশো শিক্ষক শিক্ষিকাদের গ্ৰেফতার করে।

রাজ্য সরকার, এস এস সি পর্ষদের আইনজীবীগণকে দুর্নীতি মুক্ত ও যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পক্ষে সব রকম সঠিক তথ্য সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করতে হবে।

বাগদেবীর আরাধনার পর, কলকাতার বাবুঘাটে চলছে সরস্বতী প্রতিমা নিরঞ্জন।

বৃহস্পতিবার, সারাদেশে ক্লাব , স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে, বাড়ির পুজোতে মেতে ছিলেন সরস্বতী বন্দনায়। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে কলেজের ছেলেমেয়েরা এমনকি বাড়ির অভিভাবকেরা কয়েকদিন সরস্বতী পুজোর আনন্দে মাতলেন। বাড়িতে বাড়িতে চলেছে পূজা অর্চনা, খাওয়া-দাওয়া। সকাল থেকেই স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা নতুন জামা কাপড় পড়ে বন্ধু বান্ধবের সাথে আনন্দে মেতে উঠেছিলেন, তাহারা সরস্বতী প্রতিমার কাছে বই দেখে প্রার্থনা জানালেন। ‌ যেন বুদ্ধি দেয় বিদ্যা দেয়।

সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, বুধবার ও বৃহস্পতিবার প্রতিমা নিরঞ্জনের দিন ধার্য্য ছিল, সেইমতো বাড়ির প্রতিমা থেকে শুরু করে, ক্লাবের, স্কুলের ও কলেজের প্রতিমা নিয়ে সকাল থেকেই শুরু হয় বাবুঘাটে বিসর্জনের পালা।

ঘাটে ঘাটে প্রশাসনের অফিসার থেকে শুরু করে কে এম সির লোকেরা উপস্থিত ছিলেন, এবং কড়া নজর রেখেছিলেন, যাতে কোনরকম দুর্ঘটনা না ঘটে, শুধু তাই নয় কেউ প্রতিমা বিসর্জন করতে গিয়ে নদীর দূরে যেতে চাইলে ,প্রশাসনের অফিসারেরা তাকে পাড়ে উঠে যেতে বলেন এবং বারণ করতে থাকেন ,শুধু তাই নয় মাঝে মাঝে মাইকিং করে জানানো হয়, কোনরকম বাচ্চা নিয়ে বিসর্জনের সময় নদীর ধারে যাবেন না। এমনকি প্রতিমা সুস্থভাবে ফেলবেন, যাতে কোনো রকম দুর্ঘটনা না ঘটে। একে একে প্রতিমা নিরঞ্জন করবেন, প্রতিমা নিরঞ্জনের সাথে সাথেই শুরু হয় আবির খেলা, এবারের মতো মাকে বিদায় দিতে সকল ছাত্র ছাত্রীরা সরস্বতী মায়ের জয়ধ্বনি দিতে থাকেন আসছে বছর আবার হবে। মা আমাদের আসবে ফিরে।

কলকাতা বাবুঘাটের মতই চলেছি অন্যান্য ঘাটেও প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজ। একে একে গাড়িতে করে প্রতিমা নিয়ে হাজির বিভিন্ন ঘাটে। অনেক বাড়ির পুজোর মহিলাদের দেখা যায় ঘাটে একে অপরকে আবির মাখিয়ে দিতে। তবে বিসর্জনের সময় কোনোরকম দুর্ঘটনা ঘটেনি ও চোখে পড়েনি।

রিপোর্টার, সমরেশ রায় ও শম্পা দাস , কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর