মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়তে সরকার বদ্ধপরিকর : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামালের মামার মৃত্যুতে গভীর শোক তৃণমূলে সংগঠন শক্তিশালী রাখতে রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

নিশিতা মন্ডল, ডুমুরিয়ার অদম্য এক পরিশ্রমী নারী উদ্দোক্তা

এস রফিক ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : / ৯৩ টাইম ভিউ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : অতি দরিদ্র এক পরিবারে জন্ম নেওয়া খুলনার ডুমুরিয়ার মাগুরখালি ইউনিয়ের খোরেরাবাদ গ্রামের পংকজ মন্ডলের মেয়ে নিশিতা মন্ডলের গল্পটা শুধু কষ্টের নয়, এটা এক অবিচল লড়াইয়ের গল্প। অজপাড়া গাঁয়ের এক কোণে, চারদিকে পানি আর বিলের মাঝে ছোট্ট একটা ঘরেই তার বড় হয়ে ওঠা। বর্ষা এলেই ঘর ডুবে যেত পানিতে, মেঝে ভিজে থাকত, আর প্রতিটা রাত কাটতো ভয় আর অনিশ্চয়তায়। তবুও সেই ছোট্ট মেয়েটা স্বপ্ন দেখতে ভোলেনি। গ্রামে পড়াশোনার পরিবেশ ছিল না তেমন, স্কুল ছিল অনেক দূরে। বাধ্য হয়ে আশ্রয় নিতে হয় মামার বাড়িতে। সেখানেও ছিল অভাব, ছিল সীমাবদ্ধতা। তবুও থামেনি নিশিতা। অল্প সুযোগ, অল্প আলো, আর অসংখ্য কষ্টকে সঙ্গী করেই সেখান থেকে সে এসএসসি পাশ করে। তারপর শুরু হয় নতুন এক পথচলা। আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় খুলনার পলিটেকনিক কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু শহরে এসে যেন জীবনটা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। থাকার খরচ, পড়াশোনার চাপ, সব মিলিয়ে প্রতিটা দিন ছিল সংগ্রামের। ছোটবেলায় স্থানীয় এক মাসির কাছ থেকে একটু আধটু রূপচর্চা শেখা, আর মায়ের কাছ থেকে সেলাই শেখা। এই দুটো দক্ষতাই তখন তার ভরসা। মামার বাড়িতে থাকতে থাকতে সামান্য পারিশ্রমিকে সেলাইয়ের কাজ করতো। কিন্তু খুলনায় এসে পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়। চারদিক যখন অন্ধকার মনে হচ্ছিল, তখনই সেই ছোটবেলার শেখা রূপচর্চার স্মৃতিটা আবার মাথা তুলে দাঁড়ায়। মনে মনে নিজেকে বলে, “কিছু একটা করতেই হবে, না হলে পড়াশোনা, থাকা, কিছুই চালানো সম্ভব না।সেই থেকেই শুরু। নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার লড়াই। কিন্তু এত কষ্টের মাঝেও কোথাও স্থির হতে পারেনি নিশিতা। পড়াশোনার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে খেতে এক সময় নিরুপায় হয়ে ২০১৬ সালে বিয়ের পিঁড়িতে পা দেয় নিশিতা। সেখান থেকে বিয়ের পর দুথজন মিলে একটা স্বপ্ন দেখেছিল “আমরা একসাথে কিছু করব, নিজেরা ঘুরে দাঁড়াবো।” সেই স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখতেই শুরু হয় আরও বড় সংগ্রাম। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন জায়গায় ট্রেনিং নেয় নিশিতা। একসাথে দুইটা কাজ, একদিকে বাকিতে পোশাক এনে বাসায় বসে বিক্রি, সাথে সেলাইয়ের কাজ। অন্যদিকে বিউটিশিয়ান হিসেবে নিজেকে দক্ষ করার জন্য অন্যের পার্লারে কাজ। দিন আর রাত দুটোর মাঝের পার্থক্য যেন ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে। ১২-১৪ ঘন্টা কাজ। কখন সকাল, কখন রাত নিজেই বুঝে উঠতে পারতো না। কখনও খাওয়া হতো ঠিকমতো, কখনও হতো না। কখনও ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তো, আবার কখনও ঘুম আসতো না চিন্তায়। হাজারো দিনের গল্প জমে আছে বুকের ভেতর কষ্টের, না পাওয়ার, অপমানের, লড়াইয়ের। আজ যখন পেছনে তাকায় নিশিতা, তখন সেই দিনগুলো মনে পড়লে চোখ ভিজে যায়। কারণ সেই কষ্টগুলোই তাকে বানিয়েছে আজকের সে। এই গল্পটা শুধু ব্যথার না। এই গল্পটা প্রমাণ করে, যে মেয়ে একসময় লোনা পানিতে ডুবে যাওয়া ঘরে থেকেও স্বপ্ন দেখেছিল, সে হার মানেনি। এখন নিশিতা মন্ডল খুলনার নিউমার্কেট এরিয়াতে রমণী ফ্যাশন এর প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর, এছাড়াও  প্রজেক্ট বিউটিফিকেশন এন্ড এন্টারপ্রেনারশীপ ডেভেলপমেন্ট ট্রেইনার হিসাবে কর্মরত আছে যেটা । এছাড়াও ঘঝউঅ ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি সার্টিফাইড ঈইঞ্অ খবাবষ-৪ একজন এসোসের।

খুলনার ডুমুরিয়ায় অগ্নিদগ্ধ গৃহবধ‚র মৃত্যুর ঘটনায় ৭দিন পর থানায় মামলা

‎ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়ায় অগ্নিদগ্ধ গৃহবধ‚র মৃত্যুর ঘটনায় ৭দিন পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গৃহবধ‚র স্বামীকে আসামি করে মেয়ের পিতা অফুর গাজী বাদি হয়ে সোমবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ এখনও আসামিকে আটক করতে পারেনি।
‎মামলার বিবরণ ও পরিবার স‚ত্রে জানা যায়, উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল আমডাংগি এলাকার মৃত আতিয়ার গাজীর ছেলে জনি গাজীর সঙ্গে রঘুনাথপুর ইউনিয়নের শাহপুর এলাকার অফুর গাজীর মেয়ে বিথী বেগমের (২৩) বিগত ৭ বছর প‚র্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি চার বছর ও দুই বছরের দুটি সন্তানও রয়েছে। জনি খর্ণিয়ায় একটি তেল পাম্পে কর্মচারীর কাজ করেন। অভাব অনটনের সংসারে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে স্ত্রীর সাথে তার প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। তার‌ই জের ধরে ঘটনার দিন গত ৫ মে মঙ্গলবার দুপুরে জনি তার স্ত্রীর উপর অভিমান করে নিজ ঘরের বারান্দায় পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে বসতঘর পুড়াতে যায়। এ সময় তার স্ত্রী বিথী বেগম বাঁধা দিলে পেট্রোলের বোতল টানাটানির এক পর্যায়ে আগুন ছিটকে বিথীর শরীরে লেগে বিভিন্ন স্থানে ঝলসে যায়। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা আগুনে দগ্ধ ওই গৃহবধ‚কে উদ্ধার করে প্রথমে ডুমুরিয়া হাসপাতাল এরপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পথিমধ্যে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরদিন বিথী বেগমের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে বুধবার আসর নামাজ বাদ মৃতের বাবার বাড়ি শাহপুরে জানাজা নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়। ঘটনার ৭দিন পর ১১ মে রাতে বিথীর বাবা অফুর গাজী বাদি হয়ে জামাই জনি গাজীকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন,যার নং -০৯। ঘটনা প্রসঙ্গে ওসি তদন্ত মোঃ আছের আলী জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, আসামি গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর