শুক্রবার বেলা ২টা ১৪ মিনিটের দিকে ফিনিক্স লেদার নামের গুদামে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিটের আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ৪টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার। তবে আগুনে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু এটি চামড়ার গোডাউন তাই সেখানে কেমিক্যালের উপস্থিতি থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, হাজারীবাগ বাজারে ফিনিক্স লেদার নামের একটি গোডাউনে আগুন লেগেছে।আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ছয়টি ইউনিট তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। এসময় যোগ দেয় বিজিবি ও সেনাবাহিনী।হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ভবনে আটকে পড়া ব্যক্তিরা নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন।পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করছে।রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় কাঁচাবাজারসংলগ্ন পুরোনো ফোনিক্স ট্যানারির গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।শুক্রবার দুপুরে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে এ রিপোর্ট লেখার সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ভবনটি ট্যানারি কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত না হলেও বিভিন্ন কারখানার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। এতে কেমিক্যাল, আঠা এবং প্লাস্টিকের পণ্যের মতো দাহ্য পদার্থ মজুত ছিল। এ কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ‘জাহাঙ্গীর ফ্রেম ঘর’র মালিক মো. জাহাঙ্গীর জানান, তার গোডাউনে প্রায় দেড় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও মেশিনারি ছিল। আগুনে তার ২৩ বছরের সাজানো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিমিষেই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এর আগে করোনার পর ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি, এখনো প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ লাখ টাকার ঋণের বোঝা রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাসুম জানান, পুরো সাততলা ভবনে প্লাস্টিকের পণ্য জুতা, পাঞ্জাবি ও জামা-কাপড়ের কারখানার জন্য ভাড়া দেওয়া ছিল। এসব কারখানায় প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজ করতেন।ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. সালেহ উদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে জানান, সাততলা ভবনের পঞ্চমতলার একটি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। তবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।এদিকে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।