চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর পাঁকা ফেরী ঘাটে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়মনীতির কোন তোয়াজ করা হচ্ছে না । তবে, টোল আদায়কারীরা বলছে নিয়ম বর্হিভূত কোন টোল আদায় করা হচ্ছে না। স্থানীয় ও অন্যান্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বিভিন্ন পেশার মানুষ যাতায়াত করে। ঘাট পারাপারে টোল আদায় কারী সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। টোল আদায়ের তালিকা ঘাটে টাঙানো থাকলেও তা তোয়াক্কা না করেই ইচ্ছেমত টোল আদায় করছেন ইজারাদাররা। এমনকি একটি ডাবের টোল আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া রমজান উপলক্ষে ফেরীতে খেজুর বিক্রি করতে গেলে কেজি প্রতি ৪০ টাকা আদায় করা হচেছ।এ সময় ঘাটে পারাপারের জনগণের অভিযোগ হলো সরকারি তালিকা ঝুলানো থাকলেও দ্বিগুণ-তিনগুণ বেশি টোল আদায় করছে। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকী ও হায়রানী ফেলা হয়। এমনি কি আমাদের ঘাটের নৌকাতে পারাপার না করে অন্য নৌকাতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে বাধ্য করে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষ বাড়ী স্থানান্তর করতে গিয়ে দিতে হয় অতিরিক্ত টোল। এমনকি লাশ বহন করতে দিতে হয় টোল। সরজমিনে পাঁকা ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে মতিউর রহামান নামে এক ব্যক্তি টোল আদায় করছে।এ সময় কথা হয় রুবেল নাম এক ফেরীওয়ালা রুবেল আলীর সাথে। তিনি বলেন, আমার কাছে সামান্য খেজুর থাকায় ৮০টাকা নিয়েছে। মোটরসাইকেল চালক জানান, আমি একা থাকলেও তারা আমার নিকট হতে ১’শ টাকা নিয়েছে।আব্দুল কারিম নামে আরেকজন বলেন, এ ফেরী ঘাটকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। যা প্রায় ৪০ বছর থেকে বিদ্যমান।পল্টি মুরগী ব্যবসায়ী জানান, আমার নিকট ৮৫টি পল্টি মুরগীর টোল নিয়েছে ৪’শ টাকা। সাইফুল ইসলাম জানান, একটি ডাবে দাম ৯০টাকায় কিনে নিয়ে গেলে টোল দিতে হয়। টোল আদায়কারীরা বাধ্য করছে একটি ডাবেরও টোল দিতে।এছাড়া যদি কেউ মারা যায়, সে মরদেহ এপার থেকে ওপারে অথবা চরাঞ্চল থেকে শিবগঞ্জে নিয়ে যেতে দিতে হয় হাজার হাজার টাকা।নাম প্রকাশে একাধিক ব্যক্তি জানান, এ ঘাটে প্রায় ৪০ বছর যাবত চঁপাইনবাবগঞ্জের জামাল মেম্বার ও তার মৃত্যুর পর তার ছেলে রিপন আলি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সিন্ডকেটের মাধ্যমে এ ফেরী ঘাটের মালিকানা করে আসছে। এ ঘাটে টোল আদায় নিয়ে অনেকবার গোলমাল হয়েছে। এমনি কি উপজেলা প্রশাসন চত্বরে মানববন্ধনও হয়েছে। মামলাও হয়েছে। কিন্তু সিন্ডিকেট ভাঙ্গেনি। অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধও হয়নি।তবে মোঃ রিপন আলী বলেন, বর্তমানে আমি এ ফেরী ঘাটের সাথে সংপৃক্ত নই।পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, বর্তমানে কোন ইজারাদার নেই। ইউপি ভূমি অফিসের দায়িত্বে টোল আদায় করা হচ্ছে। আমি শুধু তাদের সহযোগিতা করি। তবে অনিয়ম হলে অবশ্যই প্রতিকার হওয়া উচিত।এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজাহার আলী জানান, বর্তমানে ফেরিঘাটে কোন ইজারা দেয়া নাই। তবে, ফেরিঘাটের দায়িত্বে আছেন ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা। যদি টোল আদায়ে অনিয়ম বা দূর্নীতি কিংবা অতিরিক্ত টোল আদায় করে সাধারণ মানুষকে হয়রানী করা হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।