বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা নিয়ে প্রথমে ২৭ দফা প্রস্তুত করেছিল বিএনপি। এরপর অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে ৩১ দফা প্রণয়ন করা হয়েছে। রবিবার ঢাকা বার আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত ৩১ দফা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ভার্চ্যুয়ালি যোগ দিয়ে এমনটা জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল, তখন ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল বিএনপি।বর্তমানে সংস্কার প্রস্তাবনা দেয়া অনেকেই সংস্কারের ধারেকাছেও ছিলেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে সময় কেউ সাহস করেনি, তখন বিএনপি ৩১ দফা উপস্থাপন করেছে। আজ যারা সংস্কার প্রস্তাবনা দিয়েছে, তাদের অনেকেই তখন সংস্কারের ধারেকাছেও ছিলেন না।এসময় গত ১৭ বছরে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় যারা সোচ্চার ছিলেন, তারা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।তিনি বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না এলে কোনো সংস্কার প্রস্তাবই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সরকারের কিছু লোকজনের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে তারা তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছেন। ‘দেশকে ধ্বংসের দ্বার প্রান্ত’ থেকে ফিরিয়ে আনতে যতো দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো বলেন, “একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যাবে, বিগত ১৫-১৬ বছরে প্রত্যেকটি সেক্টরে কী অরাজকতা হয়েছে, কী অন্যায় হয়েছে, তা আপনাদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।আপনারা বিভিন্ন নির্যাতন-অত্যাচারের কাহিনি শুনেছেন। বর্তমানে আলোচিত শব্দ ‘বৈষম্যের’ শিকার হয়েছেন। বিএনপিসহ যেসব দল মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিল, তাদের নেতাকর্মীদের কী অবস্থা হয়েছে, আপনারা চাক্ষুষ দেখেছেন। সব ক্ষেত্রে একটা ভঙ্গুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।তারেক রহমান বলেন, ‘কোন নির্বাচন আগে হবে, কোন নির্বাচন পরে হবে—এমন দাবি থাকতেই পারে। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে। আমরা বাইরে তাকালে বিভিন্ন অস্থিরতা দেখতে পাই। অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে, দেশের মানুষ যে সিদ্ধান্ত নিতে চায়, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করা এবং দেশের মানুষকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করা।আমরা লক্ষ করছি, সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির কথাবার্তা দেখে মনে হচ্ছে তারা সম্ভবত তাদের লক্ষ্য থেকে কিছুটা বিচ্যুত হচ্ছেন। বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন স্টেটমেন্ট থেকে কনফিউশন তৈরি হচ্ছে, মানুষ কনফিউজড হচ্ছে।রাজনীতিতে যখন কনফিউশন থাকবে, তখন অস্থিরতা তৈরি হবে। অস্থিরতা যদি থাকে, আমরা যে যতই সংস্কারের কথা বলি না কেন, কোনোটাই সফল হবে না। রাজনীতি অস্থির হলে, এর প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে, আর অর্থনীতির প্রভাব পড়বে সব কিছুতে। তার অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব মানুষের এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশকে যত দ্রুত সম্ভব একটি স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসা,’ বলেন তিনি।