ব্যস্ততার কারণে স্কুলে আসতে পারেন না তৃণমূল শিক্ষক নেতা, পরিবর্তে ড্যামি শিক্ষিকা ক্লাস করতেন, শোকজ লেটার ডি আই এর। উঠে আসলো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের চন্ডীপুর ব্লকে,
জানা যায় ব্যস্ততার কারণে স্কুলে আসতে পারেন না তৃণমূল শিক্ষক নেতা। পরিবর্তে ড্যামি শিক্ষিকা করতেন ক্লাস, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ছড়ালো চাঞ্চল্য ,শোকজ লেটার দিলেন ডি আই।বছরের পর বছর স্কুলে ক্লাস না করেও শিক্ষক হিসেবে নিয়মিত মাইনে তুলেছেন এক তৃণমূল নেতা, মাস শেষে স্কুলে গিয়ে হাজিরা খাতা ভরাট করতেন। নিজে স্কুলে না গিয়ে একজন ডেমি শিক্ষিকা ও রেখেছিলেন। ঘটনাটি ঘটে চন্ডিপুর ব্লকের ভগবানখালী নিউ প্রাইমারী স্কুলে। শিক্ষকের নাম স্বপন প্রধান, তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সদস্য।
ওই তৃণমূল নেতা তার ওই জ্যান্ত ভাইয়ের স্ত্রী অমিতা প্রধানকে টিচার হিসেবে রেখে ক্লাস করতেন। দীর্ঘদিন অনিয়ম চলার পরে ,কলকাতায় টিভির মাধ্যমে জেলা শাসকের কানে খবরটি পৌঁছে যায়, জেলাশাসক ডিআইকে নির্দেশ দেন ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য ডি আই কে, ডি আই এর তরফ থেকে শোকজ লেটার যায় অভিযুক্ত শিক্ষকের হাতে।
স্কুলের ছাত্ররাও এক কথায় স্বীকার করে নিয়েছে, স্বপন প্রধান বলেন অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন , আমার খাতা-কলমে রেকর্ড বলবে। আমি নিয়মিত ক্লাস করি। ২০২৩ সাল থেকে আমি জেলা পরিষদ সদস্য, তার আগেততো আমি জেলা পরিষদ সদস্য ছিলাম না। অসুস্থতার কারণে আমি মেডিকেল লিভ নিয়েছিলাম, হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমি ছুটি লিখিত আবেদন করতে পারিনি ,ফোনে প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছিলাম ,তারপর থেকে নিয়মিত ক্লাস করছি। চিকিৎসা করে ফিরে আসার পর আমি ছুটির আবেদন করেছি ও মেডিকেল সার্টিফিকেট ও জমা দিয়েছি। আমি একটা শোকজ নোটিশ পেয়েছি ,তার উত্তর দেব।
অপরদিকে নিতাই চরণ মাইতি প্রধান শিক্ষক বলেন ,কোন ড্যামি শিক্ষিকা এখানে আসতেন না, একজন শিক্ষানুরাগী মহিলা স্বইচ্ছায় মাঝে মধ্যে আসতেন, উনি ক্লাস নিতেন না , কমিটির অনুমতি নিয়ে তিনি মাঝে মধ্যে আসতেন একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে, মাঝে মধ্যে শিক্ষকদের সহযোগিতা ও ছাত্রদের পঠন পাঠনের সুবিধার জন্য ক্লাস নেওয়ার ও ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন , সে কারণে কমিটির অনুমতি নিয়ে উনাকে মাঝে মধ্যে বাচ্চাদের পড়াতে বলা হয়েছিল বিনা পারিশ্রমিকে।
মৃণাল কান্তি সিনহা, যিনি সভাপতি তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের, বলেন স্বপনবাবু একজন সহ শিক্ষকের পাশাপাশি জেলা পরিষদের সদস্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব।
শুনেছি বর্তমানে তিনি বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকার কারণে স্কুলের গঠন পাঠনে যাতে কোন ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য ড্যামি শিক্ষক দিয়েছিলেন। আমি জানিনা অভিযোগ কতটা সঠিক, যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে আমি তার তীব্র বিরোধিতা করছি। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের ডিআই বলেন প্রাথমিক ভাবে শোকজ করা হয়েছে, পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
রিপোর্টার , সমরেশ রায় ও শম্পা দাস