প্রচণ্ড শীতে নিজ দেশে যখন ব্যাঁচামরার প্রশ্ন তখন একটু উষ্ণতা, অর্দ্রেতা আর শ্যামলিমার আশায় হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শীতপ্রধান দেশের পাখিরা অতিথি হয়ে আসে বাংলাদেশে। প্রতি বছর শীত এলেই এসব পাখির কলতানে মুখর হয়ে ওঠে নওগাঁর জবই বিল। নওগাঁ শহর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে সাপাহার উপজেলার শিরন্টি, গোয়ালা, আইহাই ও পাতাড়ী ইউনিয়নের ডুমরইল, বোরা মির্জাপুর, মাহিল, কালিন্দার ও ভুতকুড়িসহ পাঁচটি বিলের সমন্বয়ে গঠিত এক বিশাল প্রাকৃতিক জলাভূমি জবই বিল। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের পুনর্ভবা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এ বিল। এ বিলের আয়তন প্রায় ২ হাজার
হেক্টর।জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে সুদূর সাইবেরিয়া, ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পরিযায়ী পাখির মধ্যে বড় খোপা, ডুবুরি, লেংজ্ঞা হাঁস, পিয়াং হাঁস, চখাচখি, পাতিসরালী, তিলি হাঁস, ভুতি হাঁসসহ ৩৫ থেকে ৪০ প্রজাতির পাখির দেখা মিলেছে।সম্প্রতি একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে এই বিলে অতিথি পাখিসহ সর্বমোট পাখির সংখ্যা ছিল পাতি সরালি প্রায় ২০২৩টি, পরিযায়ী লাল ঝুটি ভুতিহাস প্রায় ৩০০০টি, পরিযায়ী গিরিয়া হাঁস প্রায় ৬০০টি, পরিযায়ী পাতি তিলি হাঁস ৫০০টি, পরিযায়ী টিকি হাঁস ও পিয়াং হাঁস ১২টি, পরিযায়ী কলাপাখ ঠেঙ্গি ৬০টি, গেওলা বাটান ২০০টি, চা পাখি ৪০০টি, প্রশান্ত সোন জিরিয়া ২০০টি, পাতি ভুতি হাস ১৫০টিসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১১০২/৩০টি।অতীতে এই বিলে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে শীতকালে অতিথি পাখিদের আগমনে পুরো বিলে পর্যাপ্ত কচুরিপানা ও পাখিদের আড্ডায় সারাক্ষণ কিচিরমিচির শব্দে এলাকা মুখরিত হয়ে থাকত। সে সময় রাজধানী ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাখি শিকারিরা এই বিলে পাখি শিকার
করতে আসত। মাঝখানেএলাকার লোকজন পুরো বিলটি কচুরিপানামুক্ত করে সেখানে ধান চাষাবাদ শুরু ও অধিক হারে পাখি শিকার করায় পাখির আগমন কমতে শুরু করে। এমন সময় বিলে পাখি শিকার বন্ধ করতে স্থানীয় কতিপয় যুবক জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজকল্যাণ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে পাখিদের নিরাপত্তা বিধানে সরকারের সহযোগী হিসেবে ভলেন্টিয়ারের মাধ্যমে পাখি শিকার বন্ধে ঝটিকা অভিযান শুরু করে। ফলে এক সময় জবই বিল থেকে যে কোনো ধরনের পাখি শিকার চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে বিলটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ ধরার কাজ শুরু হয়। এ সময় বিলে অসংখ্য মানুষের উপস্থিতি ও যন্ত্রচালিত নৌকার বিকট শব্দে বিল থেকে পাখিগুলো প্রাণভয়ে যত্রতত্র পালিয়ে যায়। এর জন্য জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সদস্যরা সারা বছর বিলটিতে পাখিদের বসবাসের জন্য বিলটির কোনো একাংশে। একটি পাখির অভয়াশ্রম তৈরির জন্য সোচ্চার রয়েছেন।সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুদ হোসেন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। পাখিদের জন্য নিরাপদ অভয়াশ্রম নির্মাণের জন্য বিলের কোনো এক অংশে লাল পতাকা দ্বারা চিহ্নিতকরণ করার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রোজিনা খাতুন বলেন, নিঃসন্দেহে এটি একটি ভালো উদ্যোগ। নির্বাহী অফিসার আমাকে মৌখিকভাবে লাল পতাকা দিয়ে পাখিদের অভয়াশ্রমের