সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
আশুলিয়ায় মরহুম মীর আনাম আলী ও আনোয়ারা মোতালেব স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বইয়ের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে কলকাতায় বিশাল মিছিল পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের আশ্বাস, গ্রামীণ উন্নয়নে জোর ও কর্মীদের সম্মানিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত মানবসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি: সর্বোচ্চ সম্মানসূচক অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ক্যাপিটাল গার্ডেন এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের আন্তর্জাতিক কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি হলেন ভারতের ড. সৈয়দ খালিদ কায়েস  বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে মালদ্বীপের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির সেবার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মানবতাবিরোধী অপরাধে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, অপর তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

পঞ্চগড়ে চেয়ারম্যান কে ফাঁসানোর অভিযোগে বিজিবি অবরুদ্ধ অতঃপর জন রোজানলে মুক্তি

মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ / ১৬২ টাইম ভিউ
আপডেট : সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মসলিমউদ্দিন কে ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে বিজিবি’র বিরুদ্ধে। জল্পনা কল্পনায় ১০৭ বোতল ফেনসিডিল চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় পঞ্চগড় ১৮ বর্ডারগার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র ভুতিপুকুর বিওপি’র সদস্য, তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ সদস্য ও তাদের গাড়িগুলো স্থানীয় হাজারো মানুষ অবরুদ্ধ করে রাখেন। গত শুক্রবার দুপুরে ভজনপুর ইউনিয়নের ভুতিপুকুর সীমান্তের ভাঙ্গীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন ও ইউপি চেয়ারম্যানের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য মতে জানাযায়,‘শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে বসে স্থানীয় কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মসলিমউদ্দিন। এ সময় প্রথমে বিজিবি দুজন সদস্য এসে ইউপি চেয়ারম্যান কে বলেন, আপনার সঙ্গে কথা আছে, লোক জন কে চলে যেতে বলেন। স্থানীয় লোক জন চলে যাওয়ার পরপরই অন্তত পাঁচটি গাড়িতে ৩০ থেকে ৪০ জন বিজিবি সদস্য বাড়িতে আসেন।এরপর তাঁরা পরিবারের সবার মুঠোফোনগুলো নিয়ে নেন। পরে চেয়ারম্যানসহ সবাইকে ঘর থেকে সরে যেতে বলেন। এর কিছুক্ষণ পর বিজিবি সদস্যরা আবার ও সবাইকে ডেকে ঘরে তল্লাশি চালানোর কথা বলেন। পরে মসলিমউদ্দিন কে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ঘর তল্লাশি করেন বিজিবির সদস্যরা। শেষে মসলিমউদ্দিনের ঘরে গিয়ে বিজিবি সদস্যরা দুটি সাদা রঙের মোড়ানো বস্তা দেখিয়ে কি রয়েছে জানতে চান। পরে বস্তা দুটি খুলে দেখাযায় সেখানে ১০৭ বোতল ফেনসিডিল। তখন ফেনসিডিল সহ চেয়ারম্যান মসলিমউদ্দিন কে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বিজিবির সদস্যরা।এরই মধ্যে চেয়ারম্যান কে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে এলাকাবাসি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চেয়ারম্যান কে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে স্থানীয় লোকজন বিজিবি ও পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে আট কে দেন। ধীরে ধীরে ওই এলাকায় লোক জন বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে হাজারো মানুষ বিজিবি, পুলিশ সদস্যদের গাড়িসহ অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ছাড়া এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা দুইটার দিকে ভজনপুর বাজারেও পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা মহাসড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল জিয়াউল হক, তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলেরাব্বী, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর চন্দ্রসরকার, উপজে লাবিএনপির আহবায়ক শাহাদৎ হোসেন রঞ্জু, সদস্য সচিব রেজাউল করিম শাহীন সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে যান। স্থানীয়দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর তদন্ত পূর্বক এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।বিজিবি সদস্যরা পরে ইউপি চেয়ারম্যান কে ছেড়ে দিয়ে জব্দকরা ফেনসিডিল নিয়ে যান।চেয়ারম্যানের প্রতিবেশিরা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান কে মাদকের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের চেয়ারম্যান মাদক তো দূরের কথা ধূমপান ও করেন না। ইউপি চেয়ারম্যানের মানহানিকর এমন ঘটনায় আমরা মর্মাহত। আমরা দোষীদের বিচারচাই। চেয়ারম্যান মসলিমউদ্দিন বলেন, তিন দিন আগে আমার পরিষদের কয়েক জন সদস্য তিনটি ভারতীয় গরু আটক করেন। ভুতিপুকুর বিজিবির সদস্যরা গরু তিনটি কে চাইলে আমরা সেগুলো খোয়াড়ে দিই। যেহেতু সেগুলো জন প্রতিধিরা আটক করেছেন, তাই গরু গুলোর মালিক বের হয় কিনা জানার জন্য কয়ে কদিন খোয়াড়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নিয়ে ১৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক জামালউদ্দিনের সঙ্গে আমার কথাকাটা কাটি হয়। শুক্রবার বেলা ১১টার পর হঠাৎ বিজিবি আমার বাড়ি ঘেরাও করে। ঘরে প্রবেশ করে আমাকে বলে আপনার ঘরে ফেনসিডিল আছে। একটি বস্তা দেখিয়ে বলে এই বস্তায় ফেনসিডিল আছে। পরে আমাকে বিজিবির গাড়িতে উঠতে বলে তারা। গাড়িতে উঠতে শুরুকরলে শতশত গ্রামবাসী আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি করছি। যাতে আর কাউকে ফাঁসানোর চেষ্টা না করা হয়। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক জামালউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, অস্ত্র ও ফেনসিডিল আছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ১৮ বিজিবির টুআইসি মেজর রিয়াদ মোর্শেদ সহ বিজিবির সদস্যরা চেয়ারম্যানের বাড়িতে অভিযানে যান। আমার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কোন ও বিরোধ নেই। গরু নিয়ে বিজিবির সঙ্গে কোন ও ঘটনা ঘটেনি। চেয়ারম্যানের বাড়িতে ১০৭ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া গেছে। তাকে আটক করলে স্থানীয়রা ব্যারিকেড দেয়। যেহেতু গ্রামবাসী তার পক্ষে তাই আমরা মামলা কর ছিনা। জব্দকৃত ফেনসিডিল থানায় জমা দেওয়া হবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলেরাব্বী বলেন, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে জানতে পারেন, ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ফেনসিডিল উদ্ধার ও তাঁকে আটকের ঘটনায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরে ১৮ বিজিবির সিও এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও তদন্ত করা হবে। এ বিষয়ে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউলহক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং (ভুল–বোঝাবুঝি) হতে পারে। তবে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নিয়মিত চোরাচালান দমন অভিযানের অংশ হিসেবে ওই বাড়িতে তল্লাশী করা হয়েছে। এটা হয়তো যারা আমাদের তথ্য দিয়েছে, সেটাতে তাঁকে ফাঁসানোর জন্য বা তাঁর সঙ্গে কারও শত্রুতা আছে, এমনটাও ঘটতে পারে। তবে এটা সত্য যে সেখানে ফেনিসিডিলি পাওয়া গেছে। জিয়াউলহক আরও বলেন, উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতে বিক্ষুব্ধ জনতা কে থামাতে চেয়ারম্যান কে আটক করা হয়নি। এমনকি এ ঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি। তবে উদ্ধার করা ফেনসিডিলগুলো থানায় জমা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিষয়টি তদন্ত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর