গত কয়েকদিনের অতি বর্ষণের ফলে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত বিঘা জমির মৎস্য ঘের, খাল, বিল ও নীচু স্থানের ঘরবাড়ি।টানা কয়েকদিন মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলা সদর, বড়দল, স্রীউলা, প্রতাপনগর, খাজরা, আনুলিয়া, শোভনালী, কাদাকাটি, দরগাহপুর, কুল্যা ও বুধহাটা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হচ্ছে। সোমবার উপজেলার বুধহাটা, চাপড়া, নওয়াপাড়া, শ্বেতপুর, মহেশ্বরকাটি, কুল্যা ইউনিয়নের কুল্যা, গুনাকরকাটি, বাহাদুরপুর, আইতলা, মাদারবাড়ীয়া, দাদপুর, পুরোহিতপুর, আগরদাড়ী, কচুয়া, হামকুড়া এলাকা ঘুরে জানাগেছে এসব এলাকার বৃষ্টির পানি বেতনা নদীতে নিষ্কাশিক হয়ে থাকে। গত বছর থেকে বেতনা নদী খনন কাজ শুরু হলে নদীতে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে নদীর জোয়ার ভাটা বন্ধ করে দেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ফলে বর্তমান বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি নদীতে নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে সকল এলাকায়। বুধহাটা গ্রামের পূর্ব পাড়ায় অতিবৃষ্টির ফলে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ঘরবাড়ি, পুকুর, মৎস্য ঘের ও রাস্তাঘাট। অতি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন সম্ভব না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মাটি দিয়ে তৈরী ঘর বাড়ি জলমগ্ন হয়ে ধসে পড়ায় অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে। একই অবস্থা কুল্যা ও বুধহাটা ইউনিয়নের প্লাবিত এলাকার সাধারণ মানুষের। বুধহাটা গ্রামের ইজিবাইক চালক রমজান আলী বলেন, গত বছর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আল. এবিএম মোস্তাকিম এর অর্থায়নে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হলেও এবছর আর কারও সন্ধান মিলছে না। স্থানীয়রা তাদের ভিটাবাড়ি রক্ষার্থে যেকোনো ভাবেই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে চায় তারা। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি। এদিকে, উপজেলার বড়দল ইউনিয়ন বাদে প্রত্যেক ইউনিয়নের বেশীর অংশ আবাদি জমিতে মৎস্য চাষ হয়। যতদূর খোজ নিয়ে জানাগেছে উপজেলা অধিকাংশ ঘের ডুবে একাকার হয়ে টইটুমবার হয়ে পড়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গিয়ে ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এর পরও যদি বৃষ্টি চলমান থাকে তাহলে ক্ষতির পরিমান আরো বৃদ্ধি পাবে এলাকার মৎস্য চাষীরা জানান।
আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার সকালে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, হামদ-নাত পরিবেশন, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (দঃ) এঁর জীবনী নিয়ে আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও তাবারক বিতরণ করা হয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিম্নে দেওয়া হলো। বড়দল আফতাব উদ্দীন কলেজিয়েট স্কুল: প্রতিষ্ঠাতার ছেলে ও শিক্ষক প্রতিনিধি এসএম মাফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাবলুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারী অধ্যাঃ মোহাম্মদ আলী, এনামুল হক, নিমাই চন্দ্র সানা, দীপঙ্কর কুমার সরকার, ভারপ্রাপ্ত সরকারি প্রধান শিক্ষক পবিত্র কুমার নন্দী, শিক্ষক প্রতিনিধি মানিক চন্দ্র মন্ডল সহ সকল শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মাওঃ হাফিজুল ইসলাম। বুধহাটা কওছারিয়া দাখিল মাদ্রাসাঃ ঈদে মীলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় মহানবী (দঃ) এর জীবনী নিয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওঃ আবু আলা মওদুদী। হাফেজ মাওঃ রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় আলোচনা রাখেন, মাওঃ রহমত উল্লাহ, মাওঃ আঃ ওহাব, মাওঃ আঃ সালাম, মাওঃ কুতুব উদ্দীন, মাস্টার ইব্রাহিম খলিল। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওঃ আনারুল ইসলাম। আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ঈদে মীলাদুন্নবী (দঃ) উপলক্ষ্যে হামদ, নাত, কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও দোওয়া অনুষ্ঠান করা হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র শিক্ষক আসিফ ইকবালের সঞ্চালনায় সভায় আলোচনা রাখেন, শিক্ষক আয়ুব আলী, সেলিনা আক্তার ও শিক্ষার্থী রাকিব নূর প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মাওঃ আমান উল্লাহ আমান। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যদায় পালন করার খবর পাওয়া গেছে।

আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনির কাদাকাটি ইউনিয়নে অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে এলাকার মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন।
সোমবার বিকালে ইউনিয়নের কাদাকাটি, টেংরাখালী, তালবাড়িয়া, মিত্র তেতুলিয়া, জলাইখালী স্লুইস গেট, মোকামখালী স্লুইস গেট এলাকা পরিদর্শন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসেন। এসময় তিনি এলাকার সার্বিক খোজ খবর নেন। পরে মোকামকালী স্রুইস গেট পুনঃনির্মান কাজের স্থান পরিদর্শন শেষে এলাকার সুধীজনের সাথে মতবিনিময় করেন। স্লুইস গেটটির নির্মান কাজ চলমান থাকায় পানি নিস্কাশন কাজ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ জলমগ্নতা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে গেটের বাঁধ কেটে দিয়ে পানি নিস্কাশনের দাবী জানিয়ে আসছে। দাবীর প্রেক্ষিতে সরেজমিন অবস্থা পরিদর্শন ও মতবিনিময় করা হয়। মতবিনিময়কালে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনান্তে এব্যাপারে দ্রুত কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।