দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে আবেগঘন ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশে নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকার তুলে ধরলেন বিএনপির নেতা তারেক রহমান। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্মরণ করেন বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিংকে এবং তার ঐতিহাসিক উক্তির আদলে উচ্চারণ করেন—“আই হ্যাভ এ প্ল্যান।সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “মার্টিন লুথার কিংয়ের একটি বিখ্যাত কথা ছিল—‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’। আজ বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমি বলতে চাই, একজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কর্মী হিসেবে—‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান; ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি।তিনি বলেন, এই পরিকল্পনা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়; এটি দেশের মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন এবং ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রণীত। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, “এই বিশাল জনসমুদ্রে যারা উপস্থিত আছেন, শুধু এখানে নয়—সারা বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আমাদের সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা এই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবে রূপ দিতে পারব।দীর্ঘ দেড় যুগ পর স্বদেশে ফিরে ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। সেখানে দলের পক্ষ থেকে নির্মিত মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রায় ১৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় মঞ্চে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা গেছে আবেগ, প্রত্যাশা ও কৌতূহলের বহিঃপ্রকাশ। অনেকের চোখে এটি শুধু একজন নেতার দেশে ফেরা নয়—বরং দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ও নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনার প্রতীক।
এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে পূর্বাচলে সৃষ্টি হয় ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জনসমাগম, যা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।