ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে ও কাউনিয়া পয়েন্টে ৩১ উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে ধরলা সহ ছোট নদ নদীর পানি। খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জল কপাট। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের তিস্তা রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ডুবে গেছে রেল লাইন। গতি কমানো হয়েছে ট্রেনের। লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর, খুলিয়াগাছ আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা , চর গোবর্ধন, কালিগঞ্জ উপজেলাসহ হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১৭ হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট ঘরবাড়িসহ আবাদি ফসল। পানি উঠেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তিস্তা পাড়ের বাসিন্দারা। এছাড়া নদীর চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের অন্তত ১০ হাজার হেক্টর আমনের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।
আজ রোববার সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৪ মিটার। যা বিপদসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে পানির সমতল ২৯.৬২ মিটার (বিপদসীমা = ২৯.৩১ মিটার) যা বিপদসীমার ৩১ সে.মি উপরে রয়েছে ।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় বলেন, টানা বৃষ্ ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে নদীর পানি কমে যাবে। আগামী ২৪ ঘন্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কা কমে এসেছে। নদীর পানি কমে গেলে ভাঙ্গন দেখা দিতে পারে। ভাঙ্গন শুরু হলে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ করা হবে।