রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এসময় কার্যালয়টি ভাঙচুর করা হয়। দলটির সঙ্গে কয়েকদিন ধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের উত্তেজনার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ব্যানারে কয়েক শতাধিক মানুষ এই অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে।ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম গিয়ে আগুন নিভিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে কার্যালয়টিতে আগুন দেয় ছাত্র-জনতা। এসময় উত্তেজিত ছাত্ররা আওয়ামী লীগের দোসর জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে নানান স্লোগান দিতে থাকেন। তারা কার্যালয়ের দেওয়ালে লাগানো জাতীয় পার্টির সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নেওয়াজ খান বাপ্পী গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি মিছিল নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু মিছিল পার্টির কার্যালয়ের সামনে আসতেই আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। এতে অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হন।তিনি আরও বলেন, হামলার শিকার হয়ে পরবর্তীতে আমরা আবার জড়ো হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে এখানে আসি। তারপর সন্ত্রাসী আমাদের দিকে বন্দুক তাক করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে।ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন রশিদ বলেন, সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতাকে নিয়ে মিছিল শুরু করি। বিজয়নগর পানির ট্যাঙ্কির সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে মিছিল শেষ হওয়ার কথা। তবে মিছিলটি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরের সামনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপর্যুপরি আক্রমণ করা হয়। আমাদের প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্র বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিল জাপা কাকরাইল কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যেতে থাকলে কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এরপরই শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। একপর্যায়ে ঢাবি থেকে বিপুলসংখ্যক ছাত্র ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়ে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এসময় জাপা নেতাকর্মীরা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে লাঠিসোটা নিয়ে ছাত্ররা তাদের ধাওয়া দিলে কাকরাইল ছেড়ে চলে যান নেতাকর্মীরা।
এসময় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হলেও ছাত্রদের নির্বৃত্ত করতে ব্যর্থ হন তারা। এক পর্যায়ে পুলিশ নিরব ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকে।এদিকে খবর পেয়ে সাড়ে সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি আগুন নেভাতে আসে। এসময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও উত্তেজিত ছাত্ররা কার্যালয়ে সামনে ঢুকতে দেয়নি। যদিও রাত ৮টার দিকে আবারও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার পর আগুন নেভাতে আর বাধা দেননি ছাত্ররা।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো কাকরাইল ও পল্টন এলাকা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় পল্টন-বিজয়নগর সড়ক। এ বিষয়ে হাসান আল মামুন বলেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তরে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের আগে থেকেই অবস্থান ছিল। মিছিলটি আসার সঙ্গে সঙ্গে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। পরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা এক হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেন, আজকের এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দলীয় মিটিংয়ে বসেছি। মিটিং শেষে আমরা প্রতিক্রিয়া জানাব।