এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যুগে যেখানে গরু-মহিষের ব্যবহার হচ্ছে না, সেখানে ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ প্রযুক্তিকে কয়েক ধাপ পিছনে ফেলে দিয়েছে রীতিমত।যদিও ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ একটি বিরল ঘটনা। কিন্তু যশোরের কেশবপুরে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে রেসের ঘোড়া দিয়ে মাঠের কৃষি কাজ করার প্রবনতা। ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ করা যতটা না যুক্তি যুক্ত তার চেয়ে বেশী অমানবিক দুই গরুর জোয়াল-মইয়ের চাপ একটি ঘোড়ার উপর চাপিয়ে দেওয়া। সারা পৃথিবী যেখানে দ্রæত গতিতে সকল কাজ কর্ম সম্পাদনের জন্য উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতির ব্যবহার করা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলার কৃষিতেও। আর সেই যান্ত্রিক যুগে উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারকে অবমাননা করে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যাক্তি ঘোড়াকে দিয়ে করছে হাল চাষ।ভালুকঘর গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোলাম মোস্তফা বলেন, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে ৪২ শতাংশের এক বিঘা জমিতে মই দিতে সময় লাগে ১০ থেকে ১২ মিনিট। সেখানে গরু মহিষ অথবা ঘোড়া দিয়ে এক বিঘা জমিতে মই দিতে সময় লাগে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট। তাই আমরা যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। কিন্তু পার্শবর্তী মনিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামে শাহিন কেশবপুর উপজেলার ভালুকঘর গ্রামের জামাই, সে একটি ঘোড়া নিয়ে আমাদের জমিতে মই দিতে পিড়াপিড়ি করে। আমরা রাজিও হই, কিন্ত দুই গরুর কাজ এক ঘোড়ার উপর চাপিয়ে দেওয়ায় ঘোড়ার কষ্ট দেখে আমরা মর্মাহত হই এবং না করে দেই। অবোলা পশুকে এভাবে কষ্ট দেওয়া একটা অমানবিক কাজ।
শ্যামকুড়ের ঘোড়ার গাড়িওয়ালা শাহিন বলেন, তিনি ঘোড়ার গাড়িতে ধান ও অন্যান্য মালামাল বহন করতেন। এসব কাজ না থাকায় পরে ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দিতে শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, ঘোড়ার মই দিয়ে কাঁদা মাটি সঠিকভাবে সমান করা যায়। কারণ ঘোড়া ইচ্ছে মত একই জায়গাতে তিন থেকে চার বার ঘুরানো যায়। ফলে জমির মাটি কোথাও উঁচু-নিচু থাকেনা। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ বিঘা জমি মই দেওয়া যায়। এক বিঘা জমিতে মই দিয়ে ২০০ টাকা পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার বলেন, ঘোড়া দিয়ে জমিতে মই দেওয়া এটা একেবারে নতুন। এর আগে কখনো শুনিনি। দ্রুত কাজ করতে মানুষ এখন গরু মহিষের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহার করছে। সেখানে ঘোড়ার ব্যবহার যুক্তিকতা আছে বলে আমার মনে হয় না।