রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ভূমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে আলোচিত মো. গিয়াস উদ্দিন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে ভূমি দখল, হামলা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছিল পুলিশ। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে এক প্রবাসীর কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি ও সম্পত্তি জাল দলিলের মাধ্যমে দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে গিয়াস উদ্দিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তির দখল নিতে তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাতি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় অবস্থান নেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এদিকে প্রবাসীর সম্পত্তি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হুমকি ও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়াস উদ্দিন ও তার সহযোগী রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। এসব অভিযোগের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন মামলা ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারের পর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও মামলাগুলোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। গিয়াস উদ্দিনের গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, শুধু একজনকে গ্রেফতার করলেই হবে না; ভূমি দখল, জাল দলিল, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তবে গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।