বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
হাটহাজারীতে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সকল সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে : রাষ্ট্রপতি কৃষিপণ্যের আমদানি কমাতে হবে : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও গুম-খুনের নির্দেশদাতা : স্পিকার আশুলিয়ায় চাঁদার দাবিতে সাংবাদিকের উপর হামলা , হত্যার হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নৌভ্রমণে সাংবাদিক-পরিবারের মিলনমেলা, ঐক্যের বার্তা মিরপুর প্রেসক্লাবের। সারাদেশে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেল যশোর, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নে চরম দুর্ভোগ

মীর রাজিবুল হাসান নাজমুল যশোর থেকে : / ৫০৭ টাইম ভিউ
আপডেট : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন

যশোরে ২৪ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ১৫ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় ড্রেন উপচে রাস্তাঘাট তলিয়ে নোংরা পানি প্রবেশ করেছে অসংখ্য বাড়িতে। ফলে রান্না খাওয়ার ব্যবস্থাও নেই সেখানে। শহরের নিচুঅঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। রোববার রাত ১০টা থেকেই ভারিবর্ষণ শুরু হয়। থেমে থেমে হওয়া বজ্রসহ এই বৃষ্টিপাত চলে সোমবার বেলা ১০টা পর্যন্ত। তবে সূর্যের দেখা মিলেছে দেড়টার পর। ২২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ঢুকে পড়েছে পানি। অধিকাংশ রাস্তায় গোড়ালি, আবার কোথাও হাঁটুপানি জমেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শহরবাসী। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নালা ব্যবস্থাপনা না থাকা, বিদ্যমান নালার অচলাবস্থা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এদিকে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) চাঁচড়ার গ্রিড ফেলের সঙ্গে চাঁচড়া উপকেন্দ্রে পানি উঠায় বন্ধ করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে সোমবার ভোর ৪টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল শহরের ৫৫ হাজার গ্রাহক। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানায়, রোববার রাত ৯টা থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। ১০টার পর থেকে সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত থেমে থেমে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ২২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গত ৬ জুলাই ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সেই রেকর্ড ভেঙে গত ১৫ ঘন্টায় চলতি মৌসুমে ২২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অতিভারি বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতায় একরকম শহরে বন্যার রূপ নিয়েছে। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে যশোর শহরের বেশিরভাগ এলাকা। শহরের তুলনামূলক নিচু এলাকায় যেখানে অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে সেসব স্থানে রীতিমতো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ক্রমাগত বাড়ছে পানির পরিমান। অধিকাংশ স্থানে হাঁটু সমান পানি জমেছে, কোথাও কোথাও মাজা পানি। বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। শহরের বহু রাস্তা ও গ্রামাঞ্চলের মাঠঘাট পানিতে থৈ থৈ করছে। ভেসেছে পুকুর ও মাছের ঘের। শহরের অন্তত ৩০টির বেশি প্রধান সড়কে পানি জমে আছে। এছাড়াও অসংখ্য লেন বাইলেনে রয়েছে পানি। খড়কি এলাকার শাহ্ আবদুল করিম সড়ক, স্টেডিয়ামপাড়া, শহরের পিটিআই, নাজির শংকরপুর, ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে পাইপপট্টি, বেজপাড়া চিরুনিকল, আশ্রম রোড, শংকরপুর, রেলরোড, মিশনপাড়া, রেলস্টেশন, চোপদারপাড়া, বেজপাড়া তালতলা, টিবি ক্লিনিক মোড়, পুরাতন কসবা, পুলিশ লাইন টালিখোলা, বিমানবন্দর রোড ও ষষ্ঠীতলাপাড়ার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও শহরের ছোট ছোট সড়কে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব সড়কের দুইপাশের ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত নোংরা পানি উপচে পড়েছে সড়কে। সড়ক ছাপিয়ে সেই পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে আছেন পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এছাড়াও বাকি ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে জমেছে পানি।শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা আলতা বানু বলেন, কয়েকশ’ বাড়িতে পানি উঠেছে। আমাদের বাড়ির নিচতলায় হাঁটুপানি জমেছে। টিউবওয়েলের কিছু অংশ পানিতে ডুবেছে। ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছি আমরা। এদিকে রান্নাঘরেও পানি প্রবেশ করায় সকালের রান্নাও বন্ধ। ভূক্তভোগীরা বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা যায়। থাকে দুই তিন দিন। কিন্তু রাত থেকে যে ভারি বৃষ্টি হয়েছে, এতে ভোগান্তি দ্বিগুন হয়েছে।শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের ভেতর দিয়ে ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নামে দুটি নদ-নদী বয়ে গেছে। এর মধ্যে ভৈরব নদ দিয়ে শহরের উত্তরাংশ ও মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে শহরের দক্ষিণাংশের পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু গত দেড় দশকে শহরের দক্ষিণাংশের পানি মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে নামতে পারছে না। পয়োনিষ্কাশন নালার মাধ্যমে শহরের পানি হরিণার বিল দিয়ে মুক্তেশ্বরী নদীতে যেত। কিন্তু ২০১০ সালে হরিণার বিলে যশোর মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয়। এরপর আশপাশে আরও অনেক স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে বিল দিয়ে পানি আগের মতো নিষ্কাশিত হতে পারছে না। ঐ পানি বের করার জন্য খালের মাধ্যমে মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। কিন্তু পৌরসভা গত দেড় দশকেও সেই উদ্যোগ নিতে পারেনি।যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান বলেন, শহরবাসীর অসচেতনতার কারণেও নালার পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তা ও নালা সংস্কার ও নির্মাণের জন্য এমজিএসপি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রতিবছর পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা হয়। এ বছরও বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে পানি সরাতে কাজ করা হয়েছে।এদিকে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) চাঁচড়ার গ্রিড ফেলের সঙ্গে চাঁচড়া উপকেন্দ্রে পানি উঠায় ৯ ঘন্টা বন্ধ করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। পরে সংযোগ চালু হলেও স্বাভাবিক হয়নি বিদ্যুৎ সেবায়। এলাকাবাসী জানান, অন্তত ৯ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলাম। দুপুরে আসলেও মাঝে মধ্যে আসলেও দীর্ঘক্ষণ থাকছে না। খুব দুর্ভোগে পড়েছি।ওজোপাডিকো যশোরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, চাঁচড়া উপকেন্দ্রে গ্রিড ফেলের সঙ্গে পানি উঠায় বন্ধ করা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। সংযোগ চালু করা হলেও পুরোপুরি বিদ্যুৎ সেবা স্বাভাবিক হয়নি। দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে। এদিকে যশোর শহরের অন্তত ৩০টি সড়কে পানি জমে আছে। খড়কি এলাকার শাহ আবদুল করিম সড়ক, স্টেডিয়ামপাড়া, শহরের পিটিআই, নাজির শংকরপুর, খড়কি রূপকথা মোড় থেকে রেললাইন, ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে পাইপ পট্টি, বেজপাড়া চিরুনিকল, মিশনপাড়া, আবরপুর ক্যান্টনমেন্ট, বিমানবন্দর, ষষ্ঠীতলাপাড়ার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও শহরের ছোট ছোট সড়কেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব সড়কের দুই পাশের ড্রেনের ময়লা-আবর্জনার নোংরা পানি উপচে পড়ে সড়কে। সড়ক ছাপিয়ে সেই পানির ঢুকে পড়ে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। দুপুরের এ বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ে স্কুল ফেরত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অনেক মানুষের বসতঘরে পানি ঢুকেছে। জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন ওই ওয়ার্ডের মানুষেরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর