ভারতের উত্তর প্রদেশে সৎসঙ্গ নামক একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। মঙ্গলবার বিকালে উত্তর প্রদেশের হাথরস জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিলেন ‘ভোলে বাবা’ নামে এক ধর্মগুরু।ঘটনার পর থেকে আর পাওয়া যাচ্ছে না তাকে। পুলিশ জানিয়েছে, ভোলে বাবা নামে পরিচিত নারায়ণ সাকার হরির আসল নাম সুরজ পাল জাটভ। জাটভ উত্তর প্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল ছিলেন। ১৮টি থানায় কাজ করেছেন তিনি।২৮ বছর আগে যৌন
নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের হয় তার বিরুদ্ধে। এ জন্য বরখাস্ত হন তিনি। ইটাওয়া জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই যৌন নির্যাতনের ঘটনায় বেশ লম্বা সময় জেলে ছিলেন সুরজ পাল জাটভ। কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে ‘বাবা’র রূপ ধরেন তিনি।কিছুদিন পরে তিনি দাবি করতে থাকেন যে, সরাসরি ঈশ্বরের সঙ্গে কথা হয় তার। এ সময় থেকেই নিজেকে ভোলে বাবা হিসেবে তুলে ধরতে থাকেন জাটভ। বাড়তে থাকে ভক্তের সংখ্যাও। এখন হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, রাজস্থান, দিল্লিসহ গোটা ভারতে
অসংখ্য ভক্ত ছড়িয়ে রয়েছে স্বঘোষিত এ ধর্মগুরুর।যেই ভোলে বাবার পায়ের ধুলো নিতে গিয়ে হাথরাসে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৩০ জনের সেই ভোলে বাবার বিরুদ্ধে রয়েছে যৌন নির্য়াতনের অভিযোগ। আগরা, এটওয়া, রাজস্থান সহ একাধিক জায়গায় অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জেলও খেটেছেন। কিন্তু তারপরও বিনা বাধায় নিজেকে ধর্মগুরু বলে দাবি করে গিয়েছেন। বাহাদুর নগরের সুরাজ পালের বিরুদ্ধে প্রথম যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের হয় ১৯৭৭ সালে। সেই মামলায় জেল হয় তার। তারপর জেল থেকে বেরিয়ে নিজেকে পরিচয় দেয় ‘সাকার বিশ্ব হরি বাবা’ নামে। নিজের গ্রামে আশ্রমও খোলেন। সেখান থেকেই শুরু তার এই ধর্মগুরু হয়ে ওঠার গল্প।