শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
ঢাকার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায় আঙ্কারা: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউএনজিএ জয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্বালানি খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোড শো করবে সরকার মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: অর্থমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হলেন খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন মূলধারার গণমাধ্যমের পেশা চর্চায় অনৈতিক বাধা মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ : তথ্যমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্র রক্ষায় কতটুকু ততপর

আওরঙ্গজেব কামাল : / ৭৪ টাইম ভিউ
আপডেট : শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া কোনো রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলা যায় না। দেশে বিগত ১৫ বছর ধরে এক তরফা নির্বাচনের মাধ্যেমে গণতন্ত্রকে খাদের কিনারায় ধাপিত করেছে। বর্তমানেঅন্তর্বর্তী সরকারের উপর গণতন্ত্রের সফলতা নির্ভর করে মনে করেন জনসাধারন। একটি দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচনের বিকল্প নাই। গণতন্ত্র জীবিত রাখতে নির্বাচন প্রজন। কিন্তু সেই নির্বাচন যদি গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করার চেষ্টা করে তখন সেই নির্বাচনের কি প্রয়োজন ? যেটা গত ১৫ বছর ধরে ধারাবাহিকতায় চলেছে।এছাড়া নতুন গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসা রাষ্ট্রগুলোর বেশিরভাগ দেশেই নির্বাচনী সহিংসতার বলি হয় সাধারণ মানুষ, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা সর্বোপরি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন সব সময় রয়েছে বিতর্কের মধ্যে। ইতিমধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষিত হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রস্তুতি চলছে। তবু্ও রাজনৈতিক দলগুলি দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ অব্যহত রেখেছে। জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক সরকারে অংশ নেয় মুক্তভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে। এভাবে জনগণের জন পরিমণ্ডলে প্রবেশাধিকার থাকে আর সরকারি কর্তৃপক্ষের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জন-ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো। এ ইচ্ছার প্রকাশ ঘটে নিয়মিত বিরতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান ও মুক্ত ভোট প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, শাসক ও শাসিতের মধ্যে নিত্য যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিনিধিত্বের ও শাসনের ক্ষেত্রে শাসিতের সম্মতির নিশ্চয়তার ধারক ও বাহক হলো নির্বাচন। কিন্ত দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের দেশে সুষ্ঠ নির্বাচন হয়নি। বরংনির্বাচনী বা নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা ব্যাপক হারে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে নির্বাচন কমিশনের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে নির্বাচনী সহিংসতা বাড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমার প্রশ্ন এবারের নির্বাচন কমিশন কতটুকু দায়ীত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারবে। কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে প্রথম যে প্রতিষ্ঠানের নাম আসে সেটি হলো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা সংস্থা নির্বাচন কমিশন। এখন প্রশ্ন কমিশন আসলে কি নিরপক্ষ ও স্বাধীন ? যদিও নির্বাচনকালীন বেশিরভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ করা হয় তবুও সেখানে বেজায় দুর্বলতা থেকে যায় যেটা বিগত সময় আমরা দেখেছি। নির্বাচনকালীন তফসিল ঘোষণা থেকে গেজেট প্রাশ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনে একচ্ছত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধান ও আইন দ্বারা ক্ষমতায়িত। নির্বাচন কমিশন যদি তার প্রদেয় ক্ষমতা প্রয়োগ না করতে পারে অথবা ক্ষমতাসীন দল দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগ করতে না পারে সে ক্ষেত্রে সহিংসতা ঘটে থাকে। যেমনটি ঘটেছে বিগত সময়ের নির্বাচন গুলিতে। তাহলে একটি নিরেপেক্ষ অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন করতে হলে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে অনেক বেশী শক্তিশালী করতে হবে। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ইতিহাসে ‘সেরা নির্বাচন’ আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এ দিকে বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন,অন্তর্বর্তী সরকার গণতন্ত্রকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেবে না। তারা নির্বাচন চায় না। উপদেষ্টাদের কথায় বিষয়টি পরিস্কার। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অংশ সংস্কার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিরোধ উসকে দিতে চায়…গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে এই ধরনের বিশ্বাস জন্ম দিতে শুরু করেছে। নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপ দেবে না জামায়াতে ইসলামী। দলটি সরকারের অবস্থানকেই গুরুত্ব দিতে চায়। সংস্কারের দাবিকেই প্রথম অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা। জামায়াতের আমির বলেছেন,সংস্কার কার্যক্রম যেটা হাতে নেওয়া হয়েছে, তা যদি আক্ষরিকভাবেই গতিশীল করা হয় এবং অংশীজনেরা সে রকম সহযোগিতা করেন, তাহলে সরকারের ঘোষিত সময়ের মধ্যে সংস্কার করে নির্বাচন সম্ভব।বছরের পর বছর ধরে জোটসঙ্গী হিসেবে একসাতে হেঁটেছে বিএনপি ও জামায়াত ৷কিন্ত বর্তমানে হয়তো তাদের মধ্যে অন্যসুর বাজতে শুরু করেছে। ৫ আগস্টের পর নির্বাচন ও সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতের দূরত্ব বেড়েছে। এছাড়া জাতীয় নগারিক পার্টির (এনসিপি) অবস্থান কেমন হয়ে উঠতে পারে তা নিয়েও আলোচনা চলছে ৷অপরদিকে আওয়ামী লীগের বিচার ও সংস্কারের আগে এই দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। এখন প্রশ্ন নির্বাচন কখন কি ভাবে হবে এই প্রশ্ন সর্ব সাধারনের।এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে নানামুখী বৈঠক হচ্ছে তার কারণ দুইটি৷ একটি হলো আগামীতে জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিক অবস্থান এবং মেরুকরণ তৈরি করা৷ আরেকটি হলো সংস্কারের গতি তৈরি করে এবছরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন করা৷ বিএনপিসহ আমরা আরো অনেক দল ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চাই৷ সেটা না হলো আন্দোলনের চিন্তাও আছে৷এনসিপিও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করছে৷ তারা বিএনপি জামায়াত উভয় দলের সঙ্গেই বৈঠকের আশা করে ৷ এরইমধ্যে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও তারা বৈঠক করেছে ৷সব মিলিয়ে আমি বলবো সকলে চায় একটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন। তবে আমার প্রশ্ন এবারের নির্বাচন সহিংসতা মুক্ত হবে কি? নির্বাচরে প্রাণহানীর ঘটনা যেন না ঘটে সে দিকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারন জনগণের মতে নির্বাচন হওয়া উচিৎত ক্ষমতাসীন দলীয় প্রভাব মুক্ত ও সহিংসতা হীন। বর্তমানে নির্বাচন এলে বাড়ে সহিংসতা ও লাশের মিছিল। নির্বাচন মানে উৎসব বললে ভূল হবে না। কিন্ত সেই নির্বাচন যদি হয় সহিংসতা, ভোট কেন্দ্র দখল,ব্যালট পেপার ও ব্যালট ব্রাস্ক ছিনতাই এবং খুন যখম, ভোট বর্জনের মত ঘটনা তখন নেই নির্বাচন দুঃখ ও শোকে পরিনত হয়। তখন গণতন্ত্র কে বাঁচিয়ে রাখার কোন পথ খোলা থাকেনা। নির্বচন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে দায়দায়ীত্ব অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের। আর এ দায়িত্ব প্রাপ্ত সংগঠন হিসেবে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়দায়ীত্ব অন্য কারও ঘাড়ে এ চাপাতে পারবে না। নির্বাচন ন্যুনতম গ্রহণযোগ্যও না হলে অথবা সহিংস হলে সম্পূর্ণ দায়িত্ব বর্তাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্বাচন ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কিন্ত এবারের নির্বাচন অন্যরকম ফলে সব দায়দায়ীত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের । রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিন অবস্থান করে রাজনৈতিক কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না, রাজনৈতিক দলই হচ্ছে দেশের শক্তি। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়াই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত আগস্টে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটলে নোবেলয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তারা সরকারে এসে সংবিধান, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেয় এবং কমিশন গঠন করে। এসব কমিশনের মধ্যে কয়েকটি তাদের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, আরও কিছু কমিশন কাজ করছে।কয়েক মাস ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অতি প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ এবং দ্রুত নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে না পারলে দেশে যে সংকটগুলো তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে তা আরও বাড়বে বলে এসব রাজনৈতিক দলের নেতারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট ঘোষণা না দেওয়ায় এ নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে বলেও তারা জানান। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যে সংস্কার কার্যক্রমগুলো হাতে নেওয়া হয়েছে সেগুলো সম্পন্ন না করে নির্বাচন দিলে উদ্দেশ্যটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সংস্কার কমিশনগুলোর প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক দল বলছে, অতি দ্রুত নির্বাচনের জন্য নির্বাচন সংক্রান্ত যে সংস্কারগুলো প্রয়োজনীয় সেগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে নির্বাচন দেওয়া দরকার।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর