যশোরের কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাড়ী ইউনিয়নের চিংড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘ ১বছরেরও বেশী সময় ধরে সপ্তাহে ৪দিন বন্ধ থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার সাধারণ রোগীরা। একই ইউনিয়নের গোবিন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটিও সপ্তাহে ৪দিন বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে গ্রামের সাধারণ মানুষের দোর-গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌছে দেওয়া অঙ্গীকার।দিনের পর দিন কমিউনিটি ক্লিনিকটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের খেটে খাওয়া শত শত মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা চিংড়া গ্রামের হালিমা বেগম বলেন সপ্তাহে তিনদিন ক্লিনিকটি খোলা পাওয়া যায়। একই গ্রামের ষাটোর্দ্ধ মহিলা কদবানু বলেন, আমি খুব গরীব মানুষ বাইরে ডাক্তারের কাছে গিয়ে ফিস দিয়ে চিকিৎসা নিতে ও ঔষধ কিনতে পারি না। সেজন্য এই ক্লিনিকে আসি কিন্তু দুই-তিন দিন ধরে ঔষধ নিতে এসে ক্লিনিক বন্ধ থাকায় ফিরে গিয়েছি। কয়েক দিন পরে আজ খোলা পেয়েছি।জানাগেছে, ২০২৩ সালেন আগষ্ট মাস থেকে বদলী জনিত কারণে সাগরদাড়ী ইউনিয়নের চিংড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পপনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন এর কর্মদক্ষ হস্তক্ষেপে ক্লিনিকটি আংশিক সচল রাখার ব্যবস্থা করা হয়। সেই থেকে আজ অবধি ১বছরেরও বেশী সময় অতিবাহিত হতে চললেও নতুন কোন লোক নিয়োগ না দেওয়ায় (চিকিৎসা) স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষ। মানুষের এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রæত চিংড়া ও গোবিন্দপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে স্বাস্থ্য সেবা কর্মী নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মানুষ।এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পপনা কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর হোসেন বলেন, উপজেলার চিংড়া কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে বদলী হওয়া ও গোবিন্দপুর নতুন কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়োগ না হওয়ায় অন্যান্য ক্লিনিকের কর্মীদের দিয়ে সপ্তাহে তিন দিন ওই দুই ক্লিনিকে সেবা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। যারা প্রতি সপ্তাহের শনি, সোম ও বৃহস্পতিবার চিংড়ায় এবং শনি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার গোবিন্দপুরে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে। আশা করছি খুব দ্রæত ক্লিনিক দুটিতে দুই জন স্বাস্থ্য সেবা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।