দেশের দক্ষিন-পশ্চিম অঞ্চলের হরি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকা যশোর,সাতক্ষীরা,খুলনা জেলার ১০ টি উপজেলার ৫১ টি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবী এ অঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষের।এই অববাহিকার ১৩১ টি গেটের মধ্যে ৮২ টি গেট পলি ভরাটের জন্য পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যশোর সেনানিবাস হতে মুক্তেশরী নদী, হরি, ভদ্রা, তেলিগাতি, ঘ্যাংরাইল, হাবরখালি হয়ে ১০৩ কিঃ মিঃ পথ পাড়ি দিয়ে শিবশা নদীতে পতিত হয়েছে। মুক্তেশরী ৪৫ কিঃ মিঃ বাদে বাকি ৫৮ কিঃ মিঃ নদী ৯৫ ভাগ পলি ভরাট হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ব্যপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। হরি ঘ্যাংরাইল অববাহিকার উপনদী সমূহ মুক্তেশরী, হরি, হরিহর, বুড়িভদ্রা আফার ভদ্রা, ভদ্রা, তেলিগাতি, আমতলি, পশ্চিম শালতা, ঘ্যাংরাইল, হামকুড়া, মধ্য ভদ্রা, শৈলমারি, জয়খালি, আফার ও লোয়ার শালতা, হাবর খালি, দেলুটিসহ এই অঞ্চলের প্রায় সকল নদী পলি ভরাটের কারণে এই অববাহিকায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার হেক্টর ভুমি এর মধ্যে ৯০ হাজার হেক্টর স¤পূর্ণ জলাবদ্ধতা কবলিত হয়ে পড়েছে। যার ফলে প্রতি বছর এই অঞ্চলে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়। এ বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মৎস্য স¤পদ, ১০০ কোটি অধিক ফলজ,বনজ বৃক্ষ ও সবজি নষ্ট হয়েছে। ৯৫ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতি গ্রস্থ। ৩০০ কিঃ মিঃ পাকা ও পিচের রাস্তা-ঘাট ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে। ৫০ কোটি টাকার অধিক গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি ক্ষতি হয়েছে। পানি বাহিত রোগ মারাত্বক আকার ধারন করেছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ৯৫ভাগ ক্ষতি গ্রস্থ। কর্ম হারিয়েছে ৯০ভাগ মানুষ।এবিষয়ে হরি-ঘ্যাংরাইল অববাহিকার জলাবদ্ধতা নিরসন কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক সদস্য মহির উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, নবগঠিত ব-দ্বীপ এরিয়ায় ভুমির নিন্ম গমন অব্যহত থাকায় এবং পোল্ডারের মধ্যে পলি অবক্ষেপন না হওয়ায় বিল গুলি দিনে দিনে পুকুর সৃষ্টি হচ্ছে এবং নিন্ম ভুমি হতে অধিক নিন্ম ভুমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। ঘ্যাংরাইলের শাখা দিলুটিয়া নদীর ৫কি:মি: ও কেশবপুর হতে কাশিমপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার নদী খনন করা হলে এ অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পেতে পারে।