সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা গার্মেন্টস শ্রমিক মো. মাসুদ রানা আজ চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনজন প্রতিবন্ধী সদস্য নিয়ে গঠিত তার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নাটোরের গুরুদাসপুর ও সদর উপজেলায় দুটি প্রভাবশালী চক্রের দখলদারিত্ব ও প্রতারণার শিকার হয়ে নিজের কেনা বসতভিটা ও পৈত্রিক জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি।
আগামী ২০ জানুয়ারি জমি সংক্রান্ত মামলার শুনানির দিন ধার্য থাকলেও প্রতিপক্ষের প্রাণনাশের হুমকিতে বাদী ও সাক্ষীরা আদালতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগী মাসুদ রানার দাবি, তার বিরুদ্ধে মামলা চালাতে দখলকৃত জমির ফসলের টাকাই ব্যবহার করছে ভূমিদস্যুরা।
ডিবি তদন্তে সত্যতা মিললেও থামেনি দখলদারিত্ব
মাসুদ রানার পৈত্রিক জমি গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা শিকারপাড়া গ্রামে অবস্থিত, যা তার মা জীবদ্দশায় তাকে দান করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবেশী সোহরাব মন্ডল ওই জমিটি জবরদখল করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রেখেছেন।
ডিবি পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে জমিটির প্রকৃত মালিক হিসেবে মাসুদ রানার মালিকানা প্রমাণিত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সোহরাব মন্ডলকে একজন ‘পেশাদার দাঙ্গাবাজ ও লাঠিয়াল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলেও দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মামলার শুনানি ঘিরে সোহরাব মন্ডল ও তার সহযোগীরা সাক্ষীদের প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি দম্ভের সঙ্গে তারা বলছে, “মাসুদের জমি চাষের টাকায় ওর বিরুদ্ধেই মামলা লড়বো।”
মশিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী একাধিকবার নোটিশ দিলেও দখলদার পক্ষ তা উপেক্ষা করছে বলে জানা গেছে।
নজরুলের জালিয়াতিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারাল পরিবার
অন্যদিকে নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর মৌজায় নিজের সঞ্চিত অর্থে যে বসতবাড়িটি কিনেছিলেন মাসুদ রানা, সেখানেও বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হন তিনি। দিয়ারসাতুরিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম বাড়িটি বিক্রির আগে একটি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণ করেন। বিষয়টি গোপন রেখেই মাসুদের কাছে বাড়িটি রেজিস্ট্রি করে দেন তিনি।
পরবর্তীতে ব্যাংক ঋণ জটিলতার কারণে উচ্ছেদ হন মাসুদ রানা। বর্তমানে পঙ্গু এই শ্রমিক স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিন প্রতিবন্ধীর আর্তনাদ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মো. মাসুদ রানা নিজে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী (আইডি নং– ১৯৮২৬৭৬১১২১৫১-০১)। তার কন্যা সাদিয়া পারভিন মুক্তা শারীরিক প্রতিবন্ধিতার পাশাপাশি হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত। এছাড়া ৫-৬ বছর বয়সী পুত্র মো. আনাস ইকবাল আসিরও শারীরিক প্রতিবন্ধী।
এরই মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি ছোট বোনের স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সেই পরিবারের দায়িত্বও এসে পড়েছে মাসুদের কাঁধে।
নিঃস্ব এই শ্রমিক আক্ষেপ করে বলেন,
“সরকার যেখানে ভূমিহীনদের ঘর দিচ্ছে, সেখানে তিনজন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে আমাদের মতো পরিবারকে কেন নিজের ঘর থেকে উচ্ছেদ হতে হচ্ছে?”
অর্থাভাবে মামলা পরিচালনায় অক্ষম মাসুদ রানা সমাজসেবা অধিদপ্তর, লিগ্যাল এইড এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।