এ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মন্ত্রণালয়টা পুনর্গঠনে আমরা বসব। কীভাবে পুনর্গঠন করা যায়। পরিকল্পনা করে আমাদের এটা করতে হবে। কারণ বিগত কোটা আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ইমেজ ড্যামেজ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের। নানাভাবে এটাকে আমরা দেখব বিভিন্ন পর্যায় থেকে সবচাইতে ইমপর্টেন্ট যেটা, সেটা হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগ্রাম করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টা প্রধান হয়ে গেছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তিযোদ্ধারা ইমেজ সংকটের মধ্যে পড়েছে।বুধবার সকালে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম বলেন, একটা সুবিধাভোগী শ্রেণি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করেছে বিগত স্বৈরাচারী ব্যবস্থা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগ্রাম করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিষয়টা প্রধান হয়ে গেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সেই কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে পুনর্গঠনের জন্য প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটাসহ যে বিষয়গুলো সংগ্রামে ফুটে উঠেছিল। এটা আন্তর্জাতিকভাবেই ব্যাপক সারা ফেলেছে । সবাই এটাকে নিয়ে সংবাদ করেছে, এখনো বিশ্লেষণ হচ্ছে। সত্যিকার অর্থে, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অনেক দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা তাদের সন্তানদের তাজা রক্ত রাস্তায় ঝরাতে দেখেছে। এটা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়াটা তাদের জরুরি এবং এ বিষয়ে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব। বিগত দিনে নানা বিষয়ে অনেক ফ্যান্টাসি গল্প তৈরি হয়েছে। এ গুলোর আড়াল থেকে সত্য তথ্য বের করে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে। একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাকে চিত্রিত করেছে বিগত স্বৈরাচারী ব্যবস্থা। সে কারণে এটাকে পুনর্গঠনের ব্যাপারে এই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং তাদের বীরত্ব সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা যারা আছেন তাদের মতামত নিয়েই সামনের দিনে আমরা এগিয়ে যাব।ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা এই ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করব, এখনও করি নাই। আসছি সবে, আমি আজকেই অফিস করব। মন্ত্রণালয়ের সকলের সাথে বসে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব কী কী করতে হবে। আপনারা সব জানাতে পারবেন।অনেক সিদ্ধান্ত নেয়ার আছে। সত্যিকার অর্থেই আছে। সবাই আমরা ভাবি, বাস্তবেই ঘটেছে এ ঘটনা। এটা সবার সামনেই হবে যা কিছু আমরা পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন করব, তবে সংস্কার হবে এবং ড্রাস্টিক সংস্কার হবে। জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এ উপদেষ্টা।এ সময় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সাভার উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।