শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। জাতির এই মেরুদণ্ডের মূলভিত্তি হলো শিক্ষক। অথচ, শিক্ষক যদি হন জালিয়াতিমূলক অবৈধপন্থিয়। তবে, জাতির প্রত্যাশা পূরণ হবে কী? আজ এ প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সকলের মাঝে। বলছি, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নূতন দুলাল ভরট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে প্রভাববিস্তারে ন্যাস্ত জনৈক জাহিনুর বেগমের কথা।
#এনিয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তথ্যচিত্র প্রদান করেছেন, আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি আবু বক্কর সিদ্দিক।#
তথ্যানুসন্থানে জানা যায়, জাহিনুর বেগম ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল বে-সরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ'র) সুপারিশক্রমে সহকারি শিক্ষক (কৃষি শিক্ষক) পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে যোগদান করে একই সালের ১ জুলাই থেকে এমপিওভুক্ত হিসেবে সরকারি অংশের সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি ভোগ করছেন। এরপর ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর ও ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই এনটিআরসিএ'র সহকারি পরিচালক তাজুল ইসলাম অনুসন্ধান ও নিরীক্ষা করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবরে পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন- 'জাহিনুর বেগমের ২০০৬ সালের অর্জিত শিক্ষক নিবন্ধন (কৃষি শিক্ষা) সনদপত্রটি জাল ও ভুয়া মর্মে দালিলিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে'। এতে অবস্থা বেগতিক দেখে জাহিনুর বেগম তার ঐ নিয়োগ ও যোগদান অস্বীকার করে ২০০৩ সালে একই পদে স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পেতে ব্যাকডেট (বিগত তারিখ) উল্লেখ করে ডিজি-(ই) প্রতিনিধি হিসেবে গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহানা বানু, নূতন দুলাল উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক, তৎকালীণ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণের স্বাক্ষর ও স্থানীয় একটি দৈনিক জালিয়াতি করে নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র সৃজন করে বহাল তবিয়তে সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি ভোগ করছেন। এনিয়ে ঐ দৈনিকটির সম্পাদক ও প্রকাশক দীপক কুমার পাল, গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহানা বানু, নূতন দুলাল ভরট উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক আকবর আলী সরকার, তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য চাঁদ মিয়া, এমদাদুল হক ও শিক্ষক প্রতিনিধিদ্বয়সহ সংশ্লিষ্টগণ তাঁদের স্ব-স্ব প্রত্যায়নপত্রে উল্লেখ করেন জাহিনুর বেগমের নিয়োগ সংক্রান্ত স্বাক্ষর ও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পত্রিকা তাদের নয়। এ নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তাঁদের স্বাক্ষর ও পত্রিকা কর্টিং নকল ও জালিয়াতিমূলক। যা, আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালের জুলাই মাস থেকে বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (কৃষি) পদে এমপিওভুক্ত হয়ে সরকারি অংশের সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি ভোগ করছেন ব্যাপক জালিয়াতিবাজ জাহিনুর বেগম। তার বৈধতা না থাকলেও এখন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে দাবী করে প্রভাববিস্তারে বহিরাগত দলবল নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন।তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে জাহেদুল ইসলাম যথারীতি দায়িত্ব পালন করছেন। এরই একপর্যায়ে জাহিনুর বেগম নামে অপর একজন নিজেকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবীতে প্রভাববিস্তার করছেন। এনিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।গত রবিবার (১২ নভেম্বর) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাহেদুল ইসলাম বিভিন্ন প্রমাণাদী প্রদর্শন করে বলেন, জাহিনুর বেগম কৃষি শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট সুবিধাদী ভোগ করলেও তার নিয়োগ সংক্রান্ত কোন বৈধতা নেই।
সম্পূর্ণরূপে অবৈধ ও জালিয়াতিমূলক। যা, আইনগতভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবীদার জাহিনুর বেগম বলেন, এখন আমার বলার কিছু নেই। তার পক্ষে ডিজি থেকে চিঠি আসতেছে। তারপর তিনি কথা বলবেন। তিনি জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ করলেও কোন প্রমাণ প্রদর্শন করতে পারেননি। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকবর আলী সরকার বলেন, তাঁর চাকরিকালে জাহিনুর বেগমকে বিদ্যালয়ে কোন পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ২০০৬ সালের মার্চ মাসের ২১ তারিখে অবসর গ্রহণের আগে জাহেদুল ইসলামকে নিয়োগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য চাঁদ মিয়া, এমদাদুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি মতিউর রহমান, ইব্রাহিম আলী সরকারসহ অনেকেই বলেন, প্রধান শিক্ষক আকবর আলী সরকারের পর মোজাম্মেল হককে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের ৯ তারিখে অবসর গ্রহণ করেন। কৃষি শিক্ষক পদে জাহিনুর বেগমকে নিয়োগের কথা তারা জানেন না।
এসময় নিজ নিজ মতামত ব্যাত্ত করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহ-শিক্ষক আশরাফ আলী, সহ-শিক্ষক শামছুল হক, আশাদুজ্জামান, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল খালেক, তারা মিয়া, মাসুদ ইসলাম, কতিপয় শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ স্থানীয়রা বলেন, জাহিনুর বেগম এনটিআরসিএ'র সনদ জালিয়াতি করে কৃষি শিক্ষক পদে বিদ্যালয়ে যোগদানের পর সরকারি অংশের সুবিধাদী ভোগ করতে থাকেন। তা প্রমাণীত হলে অবসরপ্রাপ্ত আর এক প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হককে ম্যানেজ করে ব্যাপক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাকডেটে নিয়োগ দেখান। এরপর, বহিরাগত লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রভাববিস্তার, ব্যাপক ক্ষতিসাধন, ভয়ভীতি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্ন ঘটিয়ে থাকেন জাহিনুর বেগম।এব্যাপারে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক মোবাইলফোনে কথা না বলে সাক্ষাতে বলতে চেয়েও কোনভাবেই তার সাক্ষাৎ মিলছেনা। তিনি নানাভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।এনিয়ে অভিভাবক সদস্যরা বলছেন, জাহিনুর বেগমের জালিয়াতির সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক নিজেই জড়িত ছিল। প্রধান শিক্ষক থাকাকালে মোজাম্মেল হকের আপন বড় ভাই জীবদ্দশায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ছিলেন বলে অনেক বড় বড় দোষ করেও পার পেয়ে গেছেন তিনি।এব্যাপারে মোবাইলফোনে কথা হয়- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক), দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক,