যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়িতে শেষ হলো লাখো মানুষের প্রাণের উৎসব মধুমেলা। ৭ দিনের এই মধুমেলায় ছিল উৎসবের আমেজ। মধুমেলায় অবস্থিত কৃষি মেলা ব্যাপক নজর কেড়েছে মানুষের। এছাড়া মেলায় আসা বড় বড় বালিশ মিষ্টি মানুষকে আলাদা তৃপ্তি দিয়েছে। এবার মহাকবি মধুসূদন পদক-২০২৫ কাউকে দেয়া হয়নি। সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কালজয়ী এ সাহিত্যিকের লেখায় ফুটে উঠেছে বাঙালির স্বজাত্যবোধ ও স্বাধীনচেতা মনোভাব। তার অনন্য সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অমূল্য স¤পদ। সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা এবং বাংলা কবিতায় অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের পথিকৃৎ। বিশ্ব সাহিত্যের ভান্ডারে প্রবেশ করে মণি-মুক্তা আহরণ করে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। নাটক, প্রহসন, মহাকাব্য, পত্রকাব্য, সনেট, ট্রাজেডিসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তার অমর সৃষ্টি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উন্নত মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বৃহ¯পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সাগরদাঁড়ির মধুমঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ফিরোজ সরকারের সভাপতিত্বে মধুমঞ্চে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভ‚ইয়া, যশোরের পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দীন আহম্মেদ, যশোর সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি এ্যাড গাজী এনামুল হক, অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, নওয়াপাড়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক কাজী শওকত শাহী,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের আহবায়ক রাশেদ খান।শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাজিব হাসান ও যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার সুমাইয়া জাহান ঝুরকার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মধু-জন্মোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি যশোর জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম। অনুভ‚তি জ্ঞাপন করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন।উল্লেখ্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে গত ২৪ জানুয়ারি মধুমেলা শুরু হয়। প্রতিদিন মধুমঞ্চে দেশ বরেণ্য কবি সাহিত্যিকদের আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সার্কাস, মৃত্যুকুপ, নাগরদোলা প্রদর্শিত হলেও এবার মহাকবির ২০১ তম জন্মবাষির্কী উপলক্ষ্যে মধুসূদন পদক প্রদান না করা এবং গভীর রাত পর্যন্ত জাদুর প্যান্ডেলে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন, জুয়া খেলা আসর সচেতন মহলকে ব্যাথিত করেছে।