মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিসংঘের সহায়তা পৌঁছাতে ‘মানবিক করিডোর’ দেওয়ার ব্যাপারে সরকার ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে সে বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদের কাছ থেকে।সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দাবি করে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী জনগণ’ মনে করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অনির্দিষ্টকালের জন্য সমর্থন অব্যাহত রাখা ‘যৌক্তিক’ নয়।মে দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।রাখাইনে ‘মানবিক করিডোর’ দেওয়ার সরকারের ‘সিদ্ধান্তের’ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিন্তু জনগণকে জানায়নি। এমনকি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও কোনো আলোচনা করার প্রয়োজন বোধ করেনি।করিডোর ইস্যুতে তারেক রহমান বলেন, আভ্যন্তরীণ যুদ্ধে লিপ্ত মিয়ানমারের রাখাইনে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সঙ্গে জড়িত এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার কিন্তু জনগণকে জানায়নি। এমনকি জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও কোনোই আলোচনা করার প্রয়োজনবোধ করেনি। তিনি বলেন, দেশের জনগণকে না জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে কিনা, কিংবা নেওয়া উচিত কিনা এই মুহূর্তে সেই বিতর্ক আমি তুলতে চাই না। তবে দেশের স্বাধীনতা প্রিয় জনগণ মনে করে করিডোর দেওয়া না দেওয়ার বিষয় সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের কাছ থেকে। সিদ্ধান্ত আসতে হবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে, নির্বাচিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক বিশ্বের দেশে দেশে এটাই নিয়ম, এটাই রীতি। 
তিনি আরও বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষার স্বার্থে নয় অন্তর্বর্তী সরকারকে সবার আগে দেশের জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মিয়ানমার ভারত, পাকিস্তান কিংবা অন্য কোনো দেশ নয়, সবার আগে বাংলাদেশ। এটিই হতে হবে আমাদের। এটিই হতে হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি বিশ্বাস করে তৃণমূলের জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছড়া, শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়। শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষের অধিকার উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্র এগিয়ে যেতে পারে না। শ্রমজীবী কর্মজীবী মানুষের শ্রম, ঘাম, মেধার উপর নির্ভর করে একটি দেশের উন্নয়ন এবং অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি রচিত হয়। এসময় শ্রমিকদের এ সমাবেশ থেকে যেসব সংস্কারের বিষয়ে দলগুলো একমত হয়েছে অবিলম্বে সেগুলো বাস্তবায়ন করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি বলেন, যে সব সংস্কারে দলগুলো একমত হবে না সেগুলো নিয়ে ‘সনদ’ তৈরি করে পরবর্তী সংসদে পাস করানোর ব্যবস্থা করুন।‘মানবিক করিডোর’ নিয়ে তিনি বলেন, “দয়া করে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবহেলা করে এমন কোনো চুক্তি করবেন না যেই চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে।আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের সার্বজনীন শ্লোগান ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ স্লোগান ধরে বক্তব্য শেষে করেন বিএনপি মহাসচিব। এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, “এই যে মঞ্চে উপবিষ্ট আছেন আমার নেতৃবৃন্দ, আমার সামনে আছেন আমাদের কর্মীরা কেউ কি বলতে পারবেন ১৭ বছরে আপনারা জেলে যান নাই, কেউ কি বলতে পারবেন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ কেউ জেল খাটেন নাই, গ্রেপ্তার হন নাই?“এখানে মঞ্চটায় যারা আছেন, সবাই জেলে ছিলেন, এমনকি আমাদের নেতা তারেক রহমান পর্যন্ত জেলে ছিলেন।“আমি আশ্বর্য হয়ে যাই কিছু কিছু ছেলে-পেলে বলে ১৭ বছর আপনারা কি করেছেন? আরে ১৭ বছর আমরা গাছের গোড়ায় পানি ঢেলে গাছের গোড়া নরম করেছি। সেই গাছের আগায় বসে আপনারা ফল খেয়েছেন।তিনি বলেন, “দুইদিনে হাসিনার পতন হয়ে যায়নি। এটা যারা বলেন, তারা মিথ্যার সাথে বসবাস করেন, তারা সত্যি কথা বলেন না, তারা বিএনপিকে কৃতিত্ব দিতে চান না। কিন্তু বিএনপিকে এই দেশের জনগণ ভালোবাসে। আমি বলব, একা একা কৃতিত্ব নিতে গিয়ে দেশটাকে ধবংস করবেন না। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও এখনো গণতন্ত্র আলোর মুখ দেখেনি। সাম্প্রতিককালের বিবেচনায় বলতে হয়, গণতন্ত্র চোরাবালিতে আটকা পড়েছে।
এই চোরাবালি থেকে গণতন্ত্র উদ্ধার করা এই কাজটিও সম্পন্ন হবে।দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন,
“আমরা জানি সম্প্রতি একটা শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা হয়েছে। আমরা এই সমাবেশ থেকে দাবি করব, শ্রম সংস্কার কমিশন থেকে যেসব প্রস্তাবগুলো দেওয়া হয়েছে তা আগামী মে দিবসের আগেই আইন করে বাস্তবায়ন করতে হবে।তিনি মনে করেন, এ সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন হলেই শ্রমিকদের সব সমস্যার সমাধান হবে না। কিন্তু অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সংগঠনের প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জরুল ইসলাম মঞ্জুর সঞ্চালনায় সেখানে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, ফিরোজ-উজ-জামান মোল্লা মামুন, শ্রমিক দলের সালাহউদ্দিন সরকার, আবুল কালাম আজাদ, মেহেদি আলী খান, আবুল খায়ের খাজা, মোস্তাফিজুল করীম, সুমন ভুঁইয়া, প্রয়াত শ্রমিক নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। বিএনপির অন্য নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আহমেদ আজম খান, শামসুজ্জামান দুদু, আবদুস সালাম পিন্টু, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, লুৎফুজ্জামান বাবর, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মীর সরাফত আলী সপু, এবিএম মোশাররফ হোসেন।