পবিত্র শবে কদর আজ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে মহিমান্বিত এই বিশেষ রজনী। লাইলাতুল কদরের রাত ঘিরে রাজধানীর প্রতিটি মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় বেড়েছে। আল্লাহর রহমত ও বরকত প্রত্যাশায় রাতভর ইবাদতের নিয়াতে মসজিদে ভিড় করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।ই রাত উপলক্ষে রাজধানীর মসজিদে মসজিদে খতমে তারাবির নামাজ শেষে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ঘুরে দেখা যায়, এশার আজানের পর থেকেই অন্যান্য দিনের তুলনায় মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় বেশি। অনেক এলাকায় মসজিদে জায়গা না পেয়ে রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা।জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে উপচে পড়া ভিড় ছিল মুসল্লিদের। অনেকে দূর দূরান্ত থেকে নামাজ পড়তে এসেছেন এখানে। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর থেকেই বায়তুল মোকাররম, ইস্কাটন মসজিদ, বেইলি রোড, পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি মসজিদে এমন চিত্র দেখা গেছে। কেউ দলবেঁধে কেউবা সন্তানের হাত ধরে মসজিদে যাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন আসলাম। তিনি বলেন, আজকের রজনী শ্রেষ্ঠ রাজনী। আল্লাহর কাছে ভুলের জন্য ক্ষমা চাইব।একইসঙ্গে আল্লাহর কাছে রহমত বরকত চাইব। বায়তুল মোকাররম মসজিদে দেখা যায়, মসজিদের উত্তর- দক্ষিণ গেট দিয়ে প্রবেশ করছেন মুসল্লিরা। শবে কদরের রাত হওয়ায় অন্যান্য দিনের তুলনায় মুসল্লিদের ভিড় আজ অনেক বেশি। মসজিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় অনেককে সেখানে থাকা ফকির-মিসকিনদের দান করতে দেখা গেছে। মুসল্লিরা জানান, নাজাতের আশায় আজ মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন তারা। তারাবি শেষ বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়ে বাসায় ফিরবেন। কেউবা গভীর রাত পর্যন্ত মসজিদে ইবাদত বন্দেগি করার নিয়াতে এসেছেন। মুসুল্লিরা বলেন, আজ বিশেষ দিন। তাই নামাজ শেষে বিশেষ ইবাদত করব। এজন্য সন্ধ্যার পরই চলে এসেছি।বায়তুল মোকাররম ছাড়াও রাজধানীর প্রতিটি মসজিদে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। মসজিদগুলোতে নানা বয়সী মুসল্লিদের ব্যাপক উপস্থিতি। অধিকাংশ মসজিদে জায়গা ভরে রাস্তার অনেক দূর পর্যন্ত মুসল্লিদের নামাজের কাতার লক্ষ্য করা গেছে।শবে কদর শব্দটি মূলত বাংলা ভাষায় এসেছে ফারসি থেকে। আরবি শব্দ লাইলাতুল কদরের নানা মহিমা কোরআন এবং হাদিসে বর্ণিত আছে। শব বলতে মূলত রাত আর কদর বলতে ভাবমর্যাদাপূর্ণ বা সম্মানিত বোঝানো হয়। সে হিসাবে শবে কদর মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে ভাবমর্যাদাপূর্ণ রাত হিসেবে পালিত হয়।যদিও কোরআন এবং হাদিসে শবে কদরকে নির্দিষ্ট কোনো তারিখে বেধে দেওয়া হয়নি। বলা হয়েছে, রমজানের শেষ দশ দিন যেকোনো বেজোড় রাতই হতে পারে শবে কদর। তবে উপমহাদেশের অনেক আলেমের মতে, ২৬ রমজান দিবাগত রাতকে কদরের রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে আলাদা মর্যাদায় পালন করা হয়।এছাড়া বাংলাদেশে যেসব মসজিদে খতমে তারাবির পড়ানো হয়, সেখানে কদরের রাতকে উদ্দেশ্য করেই সারা মাসে নামাজে পড়া কিরাআতের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াতের খতম দেওয়া হয় কদরের রাতে। এতে করে একদিকে কোরআন খতম অন্যদিকে কদরের রাত–দুই মর্যাদাই মুসলমানরা লাভ করতে পারেন।মুসলমানদের জীবনে কদরের রাত আসে ক্ষমার বার্তা নিয়ে। “আল্লাহুম্মা ‘আফুউন তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফা‘ফুআন্নি” এই দোয়ার মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। সব মিলিয়ে এই রাত রমজানকে করে তোলে আরও মহামান্বিত। পাশাপাশি এই রাতের শিক্ষা থেকে একজন মুসমান নতুন করে ভালো মানুষ হবার যাত্রা শুরু করতে পারে বলে মনে করেন আলেম–ওলামারা।